প্রচ্ছদ / যুগান্তর / বিস্তারিত

সিনিয়র নেতাদের প্রতি আস্থাহীন তৃণমূল

খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যু: এক দফা আন্দোলন নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি

   
প্রকাশিত: ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে এক দফা আন্দোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও তা সফল হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় দলটির হাইকমান্ড। এ ধরনের আন্দোলনের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করা হলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মসূচিতে তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট বিএনপির হাইকমান্ড। তাই ধাপে ধাপে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে কঠোর আন্দোলনের দিকে যেতে চায় দলটি। যদিও দলটির তৃণমূলের অভিমত ভিন্ন। তৃণমূলের নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত তারা। তবে নীতিনির্ধারকরাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তা চান কিনা তা নিয়ে নেতাকর্র্মীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

কারণ চলতি মাসের শুরুতে এক দফা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলে বার্তা দেয়া হয়েছিল। নেতাকর্মীরা প্রস্তুতিও নেয়। কিন্তু এরপর আর কোনো নির্দেশনা নেই। উল্টো নীতিনির্ধারকদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সুস্পষ্ট করে কোনো কিছু বলছেন না। এতে তাদের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তৃণমূলের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ৭৫ বছর বয়সী গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া যদি আপসহীনভাবে কারাগারে থাকতে পারেন, আমাদের তো কারাগারে যেতে কোনো আপত্তি নেই। সবাই যদি কারাগারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি তা হলেই সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে।

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্দোলন দিনক্ষণ বলে আসে না। এর একটি নিজস্ব চরিত্র থাকে। এ ধরনের আন্দোলন বাংলাদেশে হয়েছে, বিদেশেও হয়েছে। এটা সত্য- মানুষ মুক্তি চায়। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফেরত চায়। এসব বিষয়ে জাতি আজ একতাবদ্ধ। সেখানে সফলতা আসবেই। কিভাবে সফলতা আসবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সারা দেশে আন্দোলন চাঙ্গা থাকলেও ঢাকা মহানগরের কারণে তা সফল হয়নি। চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে গত দেড় বছরে যেসব কর্মসূচি দেয়া হয়েছে তাতে ঢাকা মহানগরের থানার নেতাদের মাঠে দেখা যায়নি।

দশ-বারো জন নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে। সিনিয়র নেতাদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার জন্য বারবার নির্দেশনা দেয়া হলেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। এখন এক দফার আন্দোলন ঘোষণা করা হলে ঢাকা মহানগরই যদি সক্রিয় না হয়, তা কখনই সফল হবে না। তাই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছে বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, থানা-ওয়ার্ডের নেতাদের এক জায়গায় জড়ো হতে দেয়া হয় না। তাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নয়, পুলিশকে মোকাবেলা করতে হয়- এটা একটি কারণ। আবার আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ। যদি আমাদের ৭০ জনের কমিটিও সক্রিয় থাকে, কম নয়। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারিনি। এক জায়গায় বসে যে নেতাকর্মীদের মতামত শুনব সেই পরিস্থিতিও নেই। পুলিশ বাধা দেয়। তারপরও কেন্দ্র থেকে যদি সুস্পষ্টভাবে বড় ধরনের কর্মসূচির কথা জানায় তাহলে তা সফল করব।

দলটির নেতারা জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বেশির ভাগ নেতাই মনে করেন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে না পারলে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। এজন্য এ ইস্যুতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এক দফা আন্দোলনের নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। তবে তার আগে ধাপে ধাপে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

সে অনুযায়ী গত রোববার ও মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ঢাকায় কোথাও কোথাও কর্মসূচি পালিত হলেও কেন্দ্রীয় বা মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তাতে দেখা যায়নি। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা কিছুটা সক্রিয় থাকলেও কৃষক দল, তাঁতীদল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দলের কোনো তৎপরতাই ছিল না। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ। এমন অবস্থার মধ্যে আগামীকালও বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। এতে বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মনে করি, রজনীগন্ধা আর রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। গণতন্ত্র জেলখানায় বন্দি। গণতন্ত্র ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে রাজপথের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে। আপস না সংগ্রাম- এ কথা বললে হবে না, আপস আপসই। হয় এসপার, নয় ওসপার। এখন রাতের অন্ধকারে আওয়ামী লীগ নেতাদের পেছনে লাইন ধরে থাকবেন, আর দিনের বেলায় বিএনপি- এটাতে তো সরকার পতন হবে না।সূত্র: যুগান্তর।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: