প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

খিচুড়ি নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী-সচিব

   
প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশে যাচ্ছেন প্রাথমিকের এক হাজার কর্মকর্তা। তাদের বিদেশ যাত্রার জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। খিচুড়ির এই আলোচনা-সমালোচার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রাথমকি ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হাসান। প্রতিমন্ত্রী এটাকে অসত্য তথ্য বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রান্না শিখতে নয় প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তারা বিদেশ যেতে চান বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব।

মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করা শিখতে কোনো কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) আওতায় খিচুড়ি রান্না শিখতে এক হাজার কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠাচ্ছি বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে খবর ছাপানো হয়েছে, তা পুরোপুরি অসত্য। এমন খবরের ফলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। যারা এ ধরনের খবর ছেপেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি বলেন, ডিপিই যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটি মন্ত্রণালয় এখনো দেখেনি। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের অর্থ চেয়ে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তবে যে কোনো প্রকল্প নেয়ার সময় ওই বিষয়ে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের একটি বিষয় উল্লেখ থাকে। এটি যে কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচির একটি রীতি।

খিচুড়ি রান্না শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে ডিপিই সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল কর্মসূচির বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্যে পদ্ধতির সরজমিন অভিজ্ঞতা নিতে কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দেবে কিনা সেটি তাদের বিষয়। কমিশন কিছু ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন, জবাব দেয়া হবে। পরে একনেকে উঠবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।

প্রসঙ্গত, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এখন ১০৪ উপজেলার দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় উচ্চ পুষ্টিসমৃদ্ধ ৭৫ গ্রাম ওজনের বিস্কুট, বিতরণ করা হচ্ছে। ২০১০ সালে ৫০ কোটি টাকার ওই প্রকল্প চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এছাড়া ২০১৯ সালের সিদ্ধান্তের আলোক প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থীকে ডিম-খিচুড়ি দেয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই রান্না করা খাবার বিতরণ কর্মসূচির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। ডিপিই প্রাথমিকভাবে বিদেশ যাত্রার জন্য পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছে। এছাড়া দেশেই প্রশিক্ষণের জন্য আরও ১০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ বছর ধরে ৫০৯টি উপজেলার প্রায় এক কোটি ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর বিস্কুট ও রান্না করা খিচুড়ি দেয়া হবে। ওই প্রকল্পে ১৭ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা খাবার ক্রয়, খাবার সরবরাহের জন্য ১৭ কোটি এবং প্লেট কেনার জন্য ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও এই প্রকল্পে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) ও ছয়টি মাইক্রোবাস কিনতে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় করতে চায় ডিপিই। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেড় কোটি, জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের জন্য ৬০ লাখ এবং যাতায়াতের জন্য ২০ লাখ টাকা চেয়েছে। পরিবহন সংক্রান্ত এই ব্যয়েরও যৌক্তিক ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এর পাশাপাশি পরিদর্শন ও মূল্যায়নের জন্য আরও পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছে ডিপিই। তবে এই ব্যয় মূল্যায়ন ছাড়াই কমানো সম্ভব বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এদিকে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের আরও কিছু অপ্রয়োজনীয় খরচ চিহ্নিত করেছে। এ প্রকল্পে সামাজিক সংহতির জন্য সাড়ে সাত কোটি ও পরামর্শকের জন্য ছয় কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আট লাখ টাকা দিয়ে একটি এসি ও দুই কোটি টাকা দিয়ে ফার্নিচার ক্রয়ের বিষয়েও আপত্তি তুলেছে। মিটিং, সেমিনার ও ওয়ার্কশপের জন্য আরও পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছে ডিপিই। সূত্র: মানবজমিন।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: