গণপিটুনির মুখে ক্যাম্পাস ছাড়লেন ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক

   
প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, ২১ জানুয়ারি ২০২০

কর্মীদের হাতে পিটুনি খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে তাদের সাথে বর্তমান কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণাকারীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন সভাপতি-সম্পাদকসহ মোট ২০ জন কর্মী। এর আগেও ক্যাম্পাসে আসলে চারবার ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয় কর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মীদের দ্বারা অবাঞ্ছিত ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ এবং সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবরে আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল ক্যাম্পাস। সকাল ১১টায় ছাত্রলীগকর্মী অনিক, বিপুল, সোহাগ, আদিত, আবির, ইমনের নেতৃত্বে দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রধান ফটকে গিয়ে সভাপতি সম্পাদক গ্রুপের তিনজন কর্মীকে মারধর করে। এর পর থেকে বিভিন্ন গ্রুপে মহড়া দিতে দেখা যায়।

এরপর বেলা দেড়টার দিকে সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন কর্মী এবং স্থানীয় বাহিরাগত দুজন চরমপন্থী ক্যাডার নিয়ে থানা গেট থেকে মিছিল দিয়ে প্রধান ফটকে আসে। এ সময় বিদ্রোহী কর্মীরা দলীয় টেন্ট থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকে যায়। পরে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় গ্রপের হাতে বাশ, লাঠিসোঁটা এবং রড ছিল বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ করেছে কর্মীরা। এতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ প্রায় ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে কুষ্টিয়া মেডিক্যালে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে রাকিবকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দুপুর দেড়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে ইবি ছাত্রলীগ কর্মীরা। বেলা আড়াইটায় মহাসড়ক অবোরধ তুলে নিলেও ক্যাম্পাসের ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখে তারা। এতে ক্যাম্পাসের ২টার শিফটের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। এদিকে বহিরাগত নিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করায় তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকর্মীরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে দায়িত্বরত প্রক্টর ড. আনিছুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের এমন সংর্ষের গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। র‌্যাবও টহল দেয়। বর্তমানে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। উল্লেখ্য, পলাশ-রাকিবকে সভাপতি সম্পাদক করেগত ১৪ এপ্রিল ইবি ছাত্রলীগের কমিটি দেয় কেন্দ্র্রীয় ছাত্রলীগ। এক মাস পরেই ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে রাবিবের নেতা হয়ে আসার অডিও ফাঁস হলে এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে কর্মীরা। এরপর একাধিকবার ক্যাম্পাসে ঢুকলেও ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ে সম্পাদক।

এফএএস/এসএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: