শাহিনুর রহমান শাহিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

গণরুমেও ঠাঁই মিলছে না জাবির নবীন ছাত্রীদের

   
প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, ১১ মার্চ ২০২০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নবীন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। সাধারণত হলে আসন সংকটের কারণে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬ মাস প্রতিটি হলের (নারী ও পুরুষ) গণরুমে থাকতে হয়। সোমবার দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরাও সে বিষয়ে জেনে গণরুমে থাকার জন্যই আসেন। আবাসিক হলের গণরুমে থাকার সকল প্রস্তুতি নিয়ে এসে জানতে পারেন গণরুমেও তাদের জন্য স্থান দিতে পারছেনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকাল ৯টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা, শেখ হাসিনা হল, জাহানারা ইমাম, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে শিক্ষা উপকরণ ও জিনিসপত্র নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু হলের প্রাধ্যক্ষরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেননি।

দুপুরের দিকে ছাত্ররা গণরুমে উঠতে পারলেও বিপাকে পড়েন নবীন ছাত্রীরা। বিকেল ৫টার দিকে ছাত্রীদের ৪ টি হলের ছাত্রীরা হলে আসন পেলেও বাকি ৪ হলের ছাত্রীরা সন্ধ্যা পর্যন্ত গণরুমেও জায়গা পাননি বলে জানা গেছে।

লালমনিরহাট জেলা থেকে বাবাকে সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছেন শায়লা আক্তার। তিনি বলেন, শুনেছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। মনে অনেক আনন্দ নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে রীতিমতো হতাশ হয়েছি।

কুমিল্লা থেকে এসেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, অনেকদূর থেকে রাতে জার্নি করে এসেছি। এসে দেখি হলে থাকার জায়গা নাই। এমতাবস্থায় কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।

এদিকে প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীন আচরণে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ। সোমবার দুপুর ১টার দিকে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ঘুরে শেখ হাসিনা হলের সামনে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মিখা পিরেগু বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এটি একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সিন্ডিকেট কর্তৃক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭৩র অধ্যাদেশের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের এ রকম ভোগান্তির তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, আমরা বেশ আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ও হলের নোটিশ বোর্ডে আসন বরাদ্দ দিতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। আবাসন সংকটের কারণে আমরা ৪টি ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী তুলতে পারছি না। অনেক শিক্ষার্থী সেশনজটের কারণে বের হতে পারছে না। অনেকের মার্স্টাস পরীক্ষা শেষ হয় নি। ফলে সিট সংকট তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে। আশাকরছি অতিদ্রুত এই সংকট কেটে যাবে। তাদেরকে পরবর্তী আসন শূণ্য হওয়া সাপেক্ষে হলে তোলা হবে, আপাতত ব্যবস্থা হিসাবে চার হলের কিছু সংখ্যক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কোয়াটারে রাখা হবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: