প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ফরমান শেখ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

গরমে চাহিদা বাড়ছে আখের রসের

১৩ জুন ২০১৯, ৪:২৪:১৮

ছবি: প্রতিনিধি

বৈশাখ মাস শেষ। চলছে জৈষ্ঠ মাস। এ মাসও প্রায় শেষের দিকে। এ দু’মাসকে বলা হয় মধু মাস। আর মধু মাস আসলে শুরু হয় তীব্র তাপদাহ ও অসহ্য গরম। অন্যদিকে দেখা নেই তেমন প্রাকৃতিক বাতাস।

এ অহস্য গরমে ঘরের বাহিরে যাওয়াও দুষ্কুর ও দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রায়। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর বা বাসার রুম থেকে বের হতে চান না কেউ। তারপরও গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপ উপেক্ষা করে বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘর বা বাসার বাইরে বের হতেই হয় মানুষকে।

প্রকৃতির এই রুদ্ররুপ থেকে একটু শীতল ও সতেজ হতে মানুষ গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফল খেয়ে থাকেন। বাজারেও এর সরবরাহ রয়েছে ব্যাপক। এসব ফল ছাড়াও যেসব জিনিস খেয়ে মানুষ প্রশান্তি পাওয়ার চেষ্টা করে তার মধ্যে আখের রস অন্যতম। একটানা অসহ্য গরমে তৃষ্ণার্ত শরীর ও মনকে চাঙা করতে শহরের মানুষ আখের রস বিক্রেতার কাছে ছুটে যাচ্ছেন। বিক্রেতারাও একটানা ছোট ছোট আখ খন্ড খন্ড মেশিনে চেপে রস গ্লাসে ভরে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

সরে জমিনে বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ জুন) টাঙ্গাইল পৌর শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ডসসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায় রস বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কথা বলার সময় নেই ব্যবসায়ীদের। আখের রস খেতে অল্প বয়সী বা যুবকরাও নয়, বয়স্করাও রয়েছে লাইনে। ক্রেতারা এক গ্লাস পান করেই তৃপ্ত না। কেউ কেউ দু’তিন গ্লাসও পান করছেন। অনেকে বিভিন্ন বোতলে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন এই আখের রস। অস্থির গরমে আখের রসে কিছুটা স্বস্তি খুজে ফিরছেন তারা। এ ছাড়াও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামরাঞ্চলের হাট-বাজার স্কুল ও কজেলের পাশেও এ আখের রস বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।

নতুন বাস স্ট্যান্ডে আখের রস ব্যববসায়ী মো. ইবরাহীম মিয়া বলেন- প্রতিদিনই স্বাভাবিক মত বিক্রি হয়। কিন্তু গরমের শুরু থেকে রস বিক্রি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে যায়। ১ গ্লাস রসের দাম আগে ৫ টাকায় বিক্রি করতাম এখন ১০ টাকা বিক্রি করি। অনেকেই আছেন কয়েক গ্লাস রস খেয়ে ফেলেন।

আখের রস ক্রেতা আব্দুর রহমান হোসেন বলেন- গরমের কিছু স্বস্তি ফিরে পেতে আখের রসের কোনো জুড়ি নেই। ছোট বড় সব বয়সের মানুষই খেতে পারেন। দাম হাতের লাগালে। মানবদেহের জন্যও অনেক উপকারি এ আখের রস।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশন ও বাস স্ট্যান্ডের আখের রস বিক্রেতা ইউসুফ আলী বলেন- গরমে বেচা-কেনা বেশ ভালই হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধা রাত পর্যন্ত প্রায় ৯’শ থেকে ১৫’শ টাকা বিক্রি করা যায়। ১ গ্লাস আখের রস ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বিক্রি বৃদ্ধি কেন এমন প্রশ্ন জবাবে ইউসুফ বলেন- সব জিনিষের দাম বৃদ্ধি। এছাড়া গরমের সময়। আখ চাষিরা আখের দামও বৃদ্ধি করেছে। যার কারণে আমরা ১ গ্লাস ১০ টাকা করে বিক্রি করে আসছি।

কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার ঝর্ণা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, গরমের তৃষ্ণার্ত থেকে স্বস্তির জন্য আখের অনেক উপকারি। তাছাড়া এ আখের রসে কোনো ধরণের কেমিক্যালও নেই। প্রায়ই কয়েক গ্লাস করে খাওয়া হয় এবং বাসাতেও নিয়ে যাওয়া হয় পরিবারের জন্য।

বিডি২৪লাইভ/এজে

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: