শিমুল বারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সরকারে সাথে ১৪ দলীয় জোটের ঠান্ডা লড়াই

     
প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, ৭ জুলাই ২০১৯

১৪ দলীয় জোটে দিনকে দিন দুরত্ব বাড়ছে। এটা শুরু হয়, সরকার গঠনের পর থেকেই। জোটের নেতারা প্রায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলে থাকেন এটা আওয়ামী লীগের সরকার। এখানে সকল ভুল-ত্রুটির দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। শরিকরা কোন দায় নিবে না। বিশেষ করে সর্বশেষ মঙ্গলবার (২ জুলাই) ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে শরিক নেতারা উষ্মা প্রকাশ করেন। সংসদকে ওভারটেক করে কিভাবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করল? এতে সংসদকে অসম্মান করা হয়েছে বলে দাবি করেন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা। এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, সরকারের সাথে ১৪ দলীয় জোটের ঠাণ্ডা লড়াই চলছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে শরিকদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তার মাঝে হঠাৎ করে বাজেট পরবর্তী গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি শরিকদের সাথে ক্ষমতাসীন দলের সাথে নীতিগত পার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি যৌক্তিক এবং দেশবাসীকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তখন খুব রাগ হয়, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাধিক নেতা বলেন, সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম কম সেখানে কী করে জনবান্ধব সরকার সংসদকে না জানিয়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিল এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমাদের দেশবাসীকে নসিহত করছে বাড়তি দাম মেনে নেওয়ার জন্য। এটা কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য বাজে দৃষ্টান্ত বলেই অভিযোগ তাদের।

এদিকে ১৪ দলের সর্বশেষ সভায় শরিক দলগুলো মনে করে, এত বড় বাজেট পাস হয়েছে। সেখানে অনেক বিষয়ে কিছু বিষয়েই আমাদের দ্বিমত রয়েছে। সেগুলোর সমাধান এখনো হয়নি। বাজেট দেয়ার পরপরই কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম হুট করে বৃদ্ধি করা হলো? যেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এতে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। শুধু গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের দামও বেড়ে যাবে বলে তাদের আশঙ্কা। ফলে দেশের জনগণের স্বার্থে, জনজীবনে দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের উচিত হবে গ্যাসের দাম পুনর্বিবেচনা করা। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও যেখানে গ্যাসের দাম কমানো হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি যৌক্তিকতাপূর্ণ হতে পারে না। তবে আওয়ামী লীগ গ্যাসের দাম বাড়ানোকে মেনে নিতে দেশবাসীকে বৈঠকেই আহ্বান জানান। এতে বৈঠকে এক ধরণের উষ্মা তৈরি হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জোটের বৈঠকে সমসাময়িক রাজনীতি, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, বাজেটে সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কর্তনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে শরিকদলগুলো গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর কর্তন ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে। বৈঠকে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিকে অনুচিত বলে প্রকাশ্যে গণমাধমকে জানান। সরকারের অনেক ভালো কাজও ব্যর্থ হয়ে যাবে, এমন গণবিরোদী আচরণে। অতএব গ্যাসের দাম না বাড়ানো আহ্বান জানাচ্ছি। ঐ বৈঠকে বিশেষ অতিথি ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনস্বার্থবিরোধী। এটা অভিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে জনদুর্ভোগ বাড়বে। জীবন-মান বেড়ে যাবে। এতে করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি

প্রসঙ্গে একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমিও সকলের সঙ্গে একমত। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। এতে করে মানুষ তাদের অনেক মৌলিক চাহিদা পরিপূর্ণভাবে মেটাতে পারবে না। এবং সরকারের প্রতি জনমনে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে সরকারকে সতর্ক করে দেন। গ্যাসের দাম প্রত্যাহারের দাবি করেন তিনি। এছাড়া অন্যান্য দলের নেতাদের বক্তব্য হল, কোন রকম আলোচনা ছাড়া গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা সরকারের উচিত হয়নি। যেহেতু আমরা সরকারের শরিক দল, আমাদের সাথে একটুখানি আলোচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল কোন কিছুতেই সরকার এখন আমাদের সাথে আলোচনা করছে না। এটা কিন্তু বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ঠিক হচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি। এছাড়া তারা বলেন কিছুদিন আগেই এত বড় বাজেট পাস হয়েছে। এখানেও বেশ কিছু বিষয় আছে জনস্বার্থবিরোধী। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধি করা। আর গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্পকারখানার ওপর প্রভাব পড়বে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, নিন্ম ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর জীবনযাত্রায় ব্যয়ভার বৃদ্ধি পাবে। এতে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ পড়বে।

জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অপ্রত্যাশিত। এটাতো আগেভাগে সরকার বলেনি। এতে তো মধ্যবিত্তের ওপর সব দিক দিয়ে পয়সা কড়ির চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। মধ্যবিত্তের ওপর যদি সব দিক দিয়ে চাপ দেয়া হয় তাহলে তারা বাঁচবে কি করে! আমাদের দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। আমাদের এখানে শিল্পকারখানার আরো প্রসার হওয়ার কথা। কিন্তু সেগুলো হুমকির মুখে পড়ছে, কোথাও কোথাও মুখ থুবড়ে পড়ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবহনের ভাড়া বাড়বে, সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়বে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: