প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

গ্রামেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাস, লোক সমাগম কমছেনা

   
প্রকাশিত: ১:১৫ অপরাহ্ণ, ২৯ মার্চ ২০২০

শেরপুর জেলার শহরের মানুষ মানলেও প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ সংক্রামক প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য তেমন একটা বিধি নিষেধ মানছেন না। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ দিনে রাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও বিধি নিষেধ মানাতে পারছেন না গ্রামের মানুষকে। সকালে কিছুটা কম হলেও বিকাল হওয়ার সাথে সাথেই গ্রামের হাটবাজার গুলোতে লোক সমাগম হচ্ছে। চায়ের দোকানে প্রতিনিয়ত চলছে আড্ডাবাজী। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসন ওইসব বাজারে সচেতনতামুলক অভিযান পরিচালনা করলেও প্রশাসনের লোক চলে আসা মাত্রই ফিরে আসে পূর্বের অবস্থা। এতে আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে স্থানীয় সচেতন অধিবাসীরা।

সরকারিভাবে ১০ দিন ছুটি ঘোষনা হওয়ার পর গত ২৬ তারিখ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ ও ওষুধের দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে শেরপুরে অঘোষিত লকডাউনে জেলা ও উপজেলা শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো জনশুণ্য হলেও প্রান্তিক জনপথ এবং গ্রামের হাটবাজার গুলো কোন ভাবেই লোকসমাগম কমানো যাচ্ছেনা। তারা দাবী করেছেন করোনা ইস্যুতে স্থায়ীভাবে শেরপুরে সেনা সদস্য মোতায়েনের। এছাড়াও ছুটির সুয়োগে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে শেরপুরে আসা জনসাধারণকে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার দাবীও জানান তারা।

গত ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও নিজ গৃহে অবস্থান নিশ্চিত করতে শেরপুরে সেনা সদস্য মোতায়েন করা হলেও তারা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাস থেকে প্রতিদিন একটি গাড়ী নিয়ে এসে জেলার পাঁচটি থানায় টহল কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু এই একটি টহল গাড়ীতে কতটা কার্যকর হচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে। তাই করোনা ভাইরাস ইস্যুতে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করা দাবী করছেন আতংকগ্রস্থ গ্রামবাসী। তাছাড়া এখনো জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে তেমন প্রচারনা লক্ষ্য করা যায়নি। তারা জানেন না করোনা সম্পর্কে কিভাবে সচেতন হবে। যদি কোন কারনে গ্রামের করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে লাশের সারি অনেক দীর্ঘ হবে বলেও জানান তারা।

জেলার সদর উপজেলার পাকুরিয়া, কানাশাখোলা, রৌহা, গাজীরখামার, কুসুমহাটিসহ বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তাদের অধিকাংশেরই মাথা ব্যথা নেই। অনেকেই জানান, কাজ করে খাই করোনা টরোনা বুঝি না এসব ভাইরাস গ্রামে আসবে না শহরেই থাকবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, যে হারে গ্রামের লোকজন বিকালে বাজারে ও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিচ্ছে তাতে যেকোন সময় আমরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারি। এখনোই আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য সেনাবাহিনী স্থায়ী ক্যাম্প করার অনুরোধ করছি।

নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল, চারআলী বাজার, বটতলা মিশন মোড়, শান্তীর মোড়, বারমারী বাজার, পলাশীকুড়া স্কুল মোড়, আমবাগান বাজার, নন্নী বাজার, মানিকচাঁদ পাড়া মমেনা মার্কেট, মানুপাড়া বাজারসহ উপজেলার গ্রামের প্রায় সব বাজারেই চায়ের দোকানে কম-বেশি আড্ডাবাজী চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে, শেরপুর সদরের ঘোঘরাকান্দী এলাকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঢাকা ফেরত প্রচুর লোক এলাকায় আসছে। আল্লাহ ভাল জানেন আমাদের কি হবে। এখন জুরুরী ভিত্তিতে সেই সব লোকদের হোম কোয়ারাইন্টাইন নিশ্চিত করার দাবী জানাই।

সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার আলী বলেন, ভাই কোনভাবেই লোক সমাগম ঠেকাতে পারছিনা। গত কয়েকদিন ইউএনও স্যার, সদর থানার ওসিসহ আমি নিজে জনগণকে বুঝাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিকেল হলে শতশত লোক রাস্তায় বের হয়ে আসে। আপনারা এখন একটা কিছু করুন। তারা যেন ঈদ আনন্দ উপভোগ করছে। মরনব্যাধী করোনা ভাইরাসকে কোন প্রকার পাত্তাই দিচ্ছে না তারা।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ আল মামুন বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের টহল অব্যাহত রয়েছে। যেখানে লোক সমাগম থাকবে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশেনা দেওয়া আছে। আমরা রাত-দিন পরিশ্রম করছি। জনগণকে বুঝানো চেষ্টা করছি কিন্তু জনগণ সচেতন হচ্ছেনা। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত আছে। প্রয়োজনে উধ্বর্তন কৃর্তপক্ষের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে তাদের নির্দেশ মোতাবেক আমরা আরো টহল ব্যবস্থা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারি। তবে তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন, বাইরে বের হবেন না। আপনারা সুস্থ্য থাকুন, আমাদেরও সুস্থ্য রাখুন, দেশের মানুষকে সুস্থ্য রাখুন।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: