কামরুল হাসান

লেখক, সাংবাদিক

গ্রামের বুক চিরে শুধুই গোলাপ

   
প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, ২৪ অক্টোবর ২০২০

যান্ত্রিক জীবনে কে না চায় একটু অবসর সময়। যদিও যান্ত্রিক এই ঢাকায় অবসর সময় পেলেও মুক্ত বাতাসে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে থাকেনা। তবুও সাধ ও সাধ্যের মধ্যে যদি আপনি শহরের বুক ছেড়ে একটু মুক্ত হাওয়াতে ঘুরে আসতে চান, তাহলে যেতে পারেন গোলাপ গ্রামে।

গোলাপ গ্রামকে শুধু একটা গ্রাম বললেও ভুল হবে, এক কথায় বলা যায় ফুলের রাজ্য। এখানে সাধারণত মিরান্ডি জাতের গোলাপের চাষ বেশী হয়। শুধু সাদুল্লাহপুর নয়, আশপাশের শ্যামপুর, কমলাপুর, বাগ্মীবাড়ি গ্রামের গোলাপের রাজ্যে চোখ আটকে যাবে যে কারো। সড়কের পাশে, বাড়ির সামনে এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের সব জায়গাতেই গোলাপ চাষ করা হয়। সকালে গোলাপের বাণিজ্যিক বাগান গুলোতে কাউকে কোনো কাজ করতে দেখা যায় না। তবে দুপুরের পর প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

যেভাবে যাবেন: ট্রলারে সাদুল্লাহপুর যেতে চাইলে গাবতলী মাজার রোড কিংবা মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর নেমে রিকশায় দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট যেতে হবে। ঘাট থেকে ৩০ মিনিট পরপর সাদুল্লাহপুরের উদ্দেশে ট্রলার ছাড়ে। জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা। হেঁটেই সাদুল্লাহপুর ও এর আশপাশের গ্রাম ঘোরা যায়।

দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে ট্রলারে সাদুল্লাহপুর ঘাটে যাওয়ার সময়টুকু মুগ্ধ হওয়ার মতো। নদীর দুই তীরের মনোরম দৃশ্য চোখে প্রশান্তি দেয়। ট্রলারে প্রায় আধা ঘণ্টা লাগে সাদুল্লাহপুর যেতে। আর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে মিরপুর বেড়িবাঁধ ধরে বিরুলিয়া সেতু হয়ে সোজা গেলে আকরান বাজার। বাজার থেকে বাঁয়ের পথ ধরে এগোলেই দেখা মিলবে গোলাপ রাজ্যের।

যা দেখতে পারবেন: নাম শুনলেই মনে হবে এখানে শুধু গোলাপের বাগান। হ্যাঁ এখানে গ্রামের মাঠের পর মাঠ শুধু গোলাপ গাছের বাগান আর মাথা উচু করে থাকা গোলাপ দেখতে পারবেন। গোলাপের বাগান ছাড়াও বিরুলিয়াতে জারভারা, গ্লাডিওলাস এবং রজনীগন্ধার বাগান রয়েছে। হাতে সময় থাকলে এখানকার কয়েকটি জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারেন। বিরুলিয়া ব্রিজের কাছে রয়েছে একটি প্রাচীন বটগাছ।

যে বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করবেন: বাংলাদেশের টুরিস্ট স্পটগুলোতে সাধারণত যে সমস্যাগুলো দেখা যায় এখানে তার ব্যাতিক্রম নয়। যেমন খাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করবেন। অর্থাৎ খাওয়ার পূর্বেই খাবার যাচাই করে নিবেন এবং দাম ঠিক করে নিবেন। নয়ত খাওয়ার পর মাথায় হাত দিতে হবে।

বিনা অনুমতিতে বাগানে নামবেননা। গাছের ফুল বিনা অনুমতিতে ছিড়বেননা। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেননা। গ্রাম অঞ্চল এখানে অবশ্যই শালিনতা বজায় রেখে চলবেন।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: