প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন রিয়া!

   
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

সুশান্তের অস্বাভাবিক মৃত্যু শুধু তাঁর জীবনের গল্পকে থামিয়ে দেয়নি, তোলপাড় করে দিয়েছে বাঙালি নারী রিয়া চক্রবর্তীর জীবনকেও। সন্দেহ, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ সব মিলে পরিস্থিতি ‘চূড়ান্ত’ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। রিয়া যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন মুম্বাই পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে। শুধু তা-ই নয়, হাতকড়া পরার জন্য তিনি নাকি প্রস্তুত!

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইয়ের স্থানীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন রিয়াকে। অবশ্য তাঁদের দপ্তরে যাওয়ার আগেই অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তীর আইনজীবী সতীশ মানেসিন্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, রিয়ার তরফে কোনো সময়ই আগাম জামিনের আবেদন জানানো হয়নি বললেন রিয়ার আইনজীবী।

এর আগে সুশান্তের মৃত্যু মামলার তদন্তে গ্রেফতার হয়েছেন রিয়া চক্রবর্তীর ভাই শৌভিক চক্রবর্তী। আরও গ্রেফতার করা হয়েছে সুশান্তের বাড়ির ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে। গ্রেফতার করেছে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)।

ক্ষোভের সঙ্গে সতীশ মানেসিন্ধে বলেন, আমার মক্কেল রিয়া গ্রেফতার হওয়ার জন্য প্রস্তুত, কারণ এখানে ডাইনির খোঁজ চলছে। যদি কাউকে ভালোবাসা অপরাধ হয়, তাহলে নিজের ভালোবাসার জন্য ফল ভোগ করতে তৈরি রিয়া। যেহেতু তিনি নির্দোষ, তাই এখন পর্যন্ত কোনো আদালতে আগাম জামিনের জন্য আবেদন জানাননি। বিহার পুলিশ, সিবিআই, ইডি এবং এনসিবিতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের মিথ্যা মামলা।

৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তাঁদের। গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার হন সুশান্তের পরিচালক দীপেশও। পরদিন অর্থাৎ রোববার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হন রিয়া চক্রবর্তী। রোববার সকালেই রিয়ার বাড়িতে সমন পৌঁছে দেন এ সংস্থার কর্মকর্তারা।

সমন পেয়ে তাঁদের দপ্তরে যান রিয়া। সেখানে ছয় ঘণ্টা ধরে রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো বা এনসিবির কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রিয়া চক্রবর্তী বলেছেন, তাঁর ভাই শৌভিককে দিয়ে সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য মাদক আনাতেন।

রিয়া দেরিতে আসার কারণে তদন্ত সম্পূর্ণ হয়নি। সোমবার তাঁকে আবারও সমন পাঠানো হবে এবং তদন্ত চলবে।’ সমীর ওয়াংখেড়ে, আঞ্চলিক প্রধান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সমন পেয়ে তাঁদের দপ্তরে যান রিয়া। সেখানে ছয় ঘণ্টা ধরে রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন নার্কোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো বা এনসিবির কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রিয়া চক্রবর্তী বলেছেন, তাঁর ভাই শৌভিককে দিয়ে সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য মাদক আনাতেন। ‘লাইভ হিন্দুস্তান’-এর প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে রিয়া স্বীকার করেন যে সুশান্তের জন্য আবদুল বসিতের কাছ থেকে মাদক কিনতেন শৌভিক।

ইন্দ্রজিত চক্রবর্তী, রিয়ার বাবা দিন কয়েক আগেই সেই বসিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মুম্বাইয়ের মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রতিনিধি।

এ প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক প্রধান সমীর ওয়াংখেড়ে বলেন, রিয়া দেরিতে আসার কারণে তদন্ত সম্পূর্ণ হয়নি। সোমবার তাঁকে আবারও সমন পাঠানো হবে এবং তদন্ত চলবে।

শনিবার শৌভিক চক্রবর্তীর গ্রেফতারের পর একটি বিবৃতি দেন করেন রিয়ার বাবা ইন্দ্রজিত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন ভারত, আপনারা আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। আমি নিশ্চিত, এরপরই তালিকায় আছে আমার মেয়ে। তারপর কে আছে, তা আমি জানি না। আপনারা খুব সুন্দরভাবে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। যদিও বিচারের জন্য অবশ্য সবকিছু ন্যায়সংগত।’

১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসায় বলিউডের এই তরুণ নায়কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আত্মহত্যা করেন সুশান্ত সিং রাজপুত। আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সুশান্তের অসংখ্য ভক্ত। সেই তালিকায় রয়েছেন বলিউডের অসংখ্য তারকা থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। এমনকি বিহার পুলিশের ডিজিও তদন্ত শুরুর পর আত্মহত্যার কথা মেনে নিতে পারছিলেন না।

অন্যদিকে একের পর এক প্রেমে ব্যর্থতা, মাদক, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, নিম্নমুখী ক্যারিয়ার, পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা সবকিছু সুশান্তকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলে দাবি রিয়ার।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: