প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

আব্দুর রউফ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

   
প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি (২০১৮-২০১৯) প্রদানে বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাঙ্গালী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন জনসংখ্যানুপাতে সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সহায়তা প্রদানের কথা থাকলেও তা মানছেনা পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আর পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে নিয়ম অনুসরণ করেই বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের বৈষম্য করা হয়নি।

পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য দলপতি পরিষদের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রায় ২২০০ শিক্ষার্থীকে ২ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে নামে মাত্র ৬২১ জন বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রী বৃত্তি পেয়েছে। বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রীদের পিছিয়ে রেখে পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীদের এগিয়ে নিয়ে যাবার ষড়যন্ত্র এখানে সুস্পষ্ট।

পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এই পদ্ধতিতে খাগড়াছড়ি জেলায় এবছর কলেজ পর্যায়ে ৩২১জন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪২৫জনসহ সর্বমোট ৭৪৬জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলায় কলেজ পর্যায়ে ৩১৪জন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪১৫জনসহ সর্বমোট ৭২৯জনকে এবং বান্দরবান জেলায় কলেজ পর্যায়ে ৩১৬জন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪০৯জনসহ সর্বমোট ৭২৫জনকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্রগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় ২২০০জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি দিয়েছে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। ২২০০জনের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৬২১জন, বাকী ১৫৭৯জন পাহাড়ি ছাত্রছাত্রী। পার্বত্য চট্রগ্রামে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের অথচ শিক্ষা বৃত্তি পাবার ক্ষেত্রে তা এক-তৃতীয়াংশেরও কম। এই বৈষম্য কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে পার্বত্য চট্রগ্রামের সকল ধরণের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনসংখ্যানুপাতে বাস্তবায়ন করার জন্য। এই সংক্রান্তে উপ-সচিব জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রও আছে। তা পার্বত্য চট্রগ্রামে চাকুরী, শিক্ষা, ব্যবসা-বানিজ্যসহ কোন ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছেনা। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আমাদের না পড়ে, না পেয়ে, না খেয়ে মরতে হবে। তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামের সকল বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পার্বত্য দলপতি পরিষদের সভাপতি আবদুল আজিজ আকন্দ বলেন, খাগড়ছড়ি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়–য়া ৭৪৬ জন বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে মধ্যে বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ১৯৩, রাঙ্গামাটি জেলায় ৭২৯জনের মধ্যে বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রী ২৫৯ এবং বান্দরবান জেলায় ৭২৫জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বাঙ্গালী ছাত্রছাত্রী মাত্র ১৬৯জন। তিনি সরকারসহ স্থানীয় সকল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে অবিলম্বে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ধরনের বৈষম্যমূলক আচরন বন্ধের আহ্বান জানান। অন্যথায় বাঙ্গালী সকল সংগঠন মিলে ঐকবদ্ধ আন্দোলন করার হুমকিও দেন এই নেতা।

পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সদস্য (পরিকল্পনা) ও উপসচির ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, কোথাও কোন বৈষম্য করা হয়নি। পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তাদের ইনোভেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষাবৃত্তির আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, ফলাফল বিবরনী প্রস্তুতসহ সকল কার্যক্রম অনলাইনে অটোমেশন পদ্ধতিতে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে করা হয়েছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: