প্রচ্ছদ / স্পোর্টস / বিস্তারিত

চাকরি হারালেন ব্রণের চিকিৎসায় ‘চুমু দেয়া’ সেই ডাক্তার

     
প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, ১৭ জুন ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট

ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালেও এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

অভিযুক্ত চিকিৎসক চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দারের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী ব্রণের ইনফেকশন আছে কিনা দেখার ছলে তার গালে চুমু ও শরীরে হাত দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

শনিবার (১৫ জুন) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ওই চিকিৎসককে।

জানা যায়, নিজ চেম্বারে কোমরে ইনজেকশন দেয়ার নামে জামার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দেয়া, শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে অশ্লীলভাবে হাত বুলানোর দায়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে পপুলার হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অচিন্ত্য কুমার নাগ জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তিনি অবশ্যই আর এখানে কন্টিনিউ করবে না, তাকে চেম্বারে বসতে দেয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, ওই চিকিৎসক সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার দু’দিন পপুলারে বসতেন। যারা ফুলটাইম এখানে বসেন, তিনি তাদের মতো না।

ওই তরুণীর বক্তব্য তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছে ফোন করে তার কৃতকর্মের কারণ জানতে চাইলে ডা. শওকত বলেন, ‘ওটা কিছু না, ইনফেকশন আছে কিনা দেখছিলাম।’

পরে তরুণী বলেন, ‘এমন তো আমি কখনো দেখিনি, ইনফেকশন আছে কিনা সেটা কোনো ডাক্তার কি ঠোঁট দিয়ে চেক করে?’ এসময় ডাক্তার শওকত হায়দার ওই তরুণীকে বলেন, তিনি দুঃখিত।

ঘটনার বিবরণে ওই তরুণী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ত্বকে ব্রণের সমস্যা নিয়ে পরিচিত একজনের রেফারেন্সে প্রথমবার পপুলার হাসপাতালের ওই ডাক্তারের কাছে যান তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আরো কয়েকবার ডাক্তারের কাছে যান তিনি।

সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ওই তরুণী ডা. শওকতকে জানান তার ত্বকের সমস্যা আবার বেড়েছে, রাতে তিনি চেম্বারে বসবেন কিনা? এ সময় ওই ডাক্তার চেম্বারেই আছেন জানিয়ে মেয়েটিকে তখনই যেতে বলেন।

পরে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ওই তরুণী জানতে চান তার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আছে কিনা। এ সময় সেই ডা. শওকত বলেন, যদি সে চায় তবে একটা ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে। তরুণী ইনজেকশন দিতে রাজি হলে ওই ডাক্তার তার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।

পরে ওই তরুণী চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার মুখে ইনফেকশন দেখার কথা বলে চুমু দেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন ডা. মো. শওকত হায়দারের মতামত জানতে তাকে ফোন করা হলে ডা. শওকত ওই প্রতিবেদককে সামনাসামনি বসে কথা বলার প্রস্তাব দেন। বলেন, সামনাসামনি বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। পরে বার বার প্রশ্নের মুখে তিনি ফোন কেটে দেন।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: