প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

চীনগামী ফ্লাইটে যাত্রী বাড়ছে

   
প্রকাশিত: ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ, ৮ মার্চ ২০২০

মিজানুর রহমান: নোভেল করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ আতঙ্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন বেইজিংয়ে যাতায়াত কমিয়েছে ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশ থেকে চীনগামী ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে! করোনার উচ্চ ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বিশেষত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তরফে বিদেশ গমণাগমণে জনগনকে নিরুৎসাহিত করা হলেও করোনার আতুরঘর চীন ভ্রমণে সুনির্দিষ্টভাবে সরকারি কোন বিধি-নিষেধ এখনও নেই। সংশ্লিষ্ট সরকারী সূত্র এবং চীনে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলোর তরফে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও সরকারী নির্দেশনার অভাবে তারা চীনযাত্রায় কারও প্রতি কোন কড়াকড়ি আরোপ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছে, করোনার প্রভাবে ঢাকা থেকে সরাসরি চীনে ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে আনা হয়েছিল সরকারী নির্দেশে। কিন্তু ফ্লাইট এক দিনের জন্যও বন্ধ করা হয়নি। গত এক মাসে গড়ে চীনে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা এতটাই কমেছিল যে, এটি ২০ ভাগে নেমে এসেছিল। কিন্তু গত ক’দিনে আচমকা সেটি ৫০ ভাগের ওপরে উন্নীত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ হার দিনে দিনে বাড়বে। চীনে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর তরফে ভয়াবহ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে চীন ফেরত ফ্লাইট এবং যাত্রী নিয়ে।

চীনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী প্রায় প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে ৬২ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত যাত্রী ছিল মাসজুড়ে। গত ক’দিনে এটি গড়ে ৮০-৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চীনে সপ্তাহে ৩ দিন করে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স। এছাড়া ড্রাগন এয়ারলাইন্স সপ্তাহে চার দিন ঢাকা-হংকং রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর বাইরে চীন থেকে অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে আসে আরও ৫টি এয়ারলাইন্স। চায়না ইস্টার্ন ঢাকা-কুনমিংয়ে এবং চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে। করোনা পরিস্থিতির আগে সপ্তাহে ৭ দিনই দু’টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতো। করোনার প্রভাবে সেটি সপ্তাহে ৩ দিনে নামিয়ে আনা হয়। চায়না সাউদানের ফ্লাইট ধরে অনেক বাংলাদেশি (কানেকটিং ফ্লাইটে) যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে গমনাগমন করেন। উহান-ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত চায়না সাউদার্ন ঢাকা রুটে এয়ারবাস (এ-৩৩০ মডেল) দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতো, যার আসন ছিল ২৮০। করোনা পরিস্থিতিতে (বর্তমানে) ফ্লাইট সংখ্যা কমানো ছাড়াও ঢাকা রুটে বিমানের আকার ছোট করে প্রতিষ্ঠানটি। এখন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট চালায়, যার আসন সংখ্যা ১৬৪।

করোনা পরিস্থিতির গত এক মাসের পরিসংখ্যা দিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনগামী যাত্রী অনেকটাই কমে যায়। এটি ২০-২৫ ভাগে এসে ঠেকেছিল। তবে চীন ফেরত যাত্রী সংখ্যা খুব একটা কমেনি। এটা গড়ে প্রায় ৭০-৮০ ভাগে ছিল। গত ১০ দিনে চীনগামী এবং চীন ফেরত যাত্রী দুটোর পরিমাণই বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গড়ে এখন প্রতিটি ফ্লাইট ৫০ ভাগ যাত্রী নিয়ে রওনা করতে পারছে। ফেরার হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কোন কোন ফ্লাইট প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে আসছে। সাউদান এয়ারলাইন্সের বিমাবন্দরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন রেজা গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, করোনার প্রভাবে এমনও দিন গেছে যখন যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ফ্লাইট রি-শিডিউল করতে হয়েছে। কিন্তু গত দু’দিনে গুয়াংজু থেকে আসা এবং ঢাকা থেকে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। শুক্রবারের সর্বশেষ ফ্লাইটটি গুয়াংজু থেকে ১২৮ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে এবং ঢাকা থেকে ৭০জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করে বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা করোনা আতঙ্কে রয়েছেন। কিন্তু সরকারী নির্দেশ না থাকায় তাদের ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করতে হচ্ছে। তবে যতটা সম্ভব কর্মীরা সচেতন রয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা মাস্ক, হেক্সাসল এবং গ্লাবস ব্যবহার করছেন জানিয়ে ডিউটি অফিসার সালাউদ্দিন বলেন, যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে এটা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে জাতিগতভাবে আমরা কতটা নিরাপদ? তা নিয়ে প্রতিনিয়ত শঙ্কার মধ্যে আছি। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৪টি এয়ারলাইন্স প্রায় এক মাস ধরে চীন রুটে ফ্লাইট কমিয়েছে। অনেকে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। করোনা ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বিভিন্ন রুটেও সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ। স্থলবন্দরগুলো দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, এ পর্যন্ত ৯৩টি দেশে উহান-ভাইরাস কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে। যার মধ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১ শ ৮৮ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন- ৩ হাজার ৪ শ ৯১ জন। সুস্থ হয়ে (হাসপাতাল বা কোয়ারেন্টিন অবস্থা থেকে) বাড়ি ফিরছে ৫৭ হাজার ৩ শ ৮৯জন। ব্লুমবার্গের সর্বশেষ ৬ই মার্চের প্রতিবেদন বলছে, নোভেল করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর ভয় দুনিয়ার দেশে দেশে মানুষকে এতটাই আতঙ্কিত করে তুলেছে যে তারা দেশে বা দেশের বাইরে ভ্রমণ দূরে থাকা ঘর থেকেই বের হতে চাইছে না। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশেন ক্ষতির প্রাক্কলন করছে। জানুয়ারি থেকে উহানসহ চীনের মধ্যবর্তী হুবেই প্রদেশের সঙ্গে দুনিয়ার ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে গোটা চীনের সঙ্গে ধীরে ধীরে এয়ার যোগাযোগ কমতে শুরু করে। ডেল্টা, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারলাইন্স, এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্সসহ অনেকে এখন পর্যন্ত চীনের মূল ভুখন্ডের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। চীনের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়া বিমান সংস্থাগুলোর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইতালি ও জাপানসহ করোনা আক্রান্ত দেশগুলোতেও ফ্লাইট কমাচ্ছে বিমান সংস্থাগুলো। এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত অনেক বিমান সংস্থা ওই স্থগিতাদেশ অব্যাহত রাখার আভাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। সূত্র: মানবজমিন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: