প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা, লাদাখ সীমান্তে স্বয়ং ভারতীয় সেনা প্রধান

   
প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, ২৫ মে ২০২০

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে সম্প্রতি দেশটির উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল লাদাখ সফর করেছেন। অঞ্চলটিতে চীন-ভারত উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার (২২ মে) সেখানে সফরে যান তিনি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি। বুধবার (২০ মে) ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলে তিব্বত সংলগ্ন সীমান্তে টহলরত একদল ভারতীয় সেনা ও ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) সদস্যকে ধস্তাধস্তির পর আটক করে চীনের সেনারা। তারপর কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই লাদাখ ও সিকিম সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে আসছে চীন ও ভারত। এর জেরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটি সফরে গেলেন ভারতের সেনাপ্রধান।

ভারত-চীন সীমানা বিভক্তকারী রেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) লাদাখের পাংগং লেক এলাকার চীন-ভারত সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। পরে অবশ্য দুই পক্ষের কমান্ডারদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সেই উত্তেজনার আপাত অবসান ঘটেছে। তবে এখন দুই পক্ষই সেনা টহল জোরদার করেছে সেখানে।

চীনের বিরুদ্ধে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘিরে আগ্রাসনের অভিযোগ রয়েছে দিল্লির। দিল্লির দাবি, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১৭০ বার ভারতীয় ভূখণ্ডে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে চীনা সেনারা। এর মধ্যে ১৩০ বারই লাদাখ দিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ভারতীয় অংশে ঢুকেছে তারা। লাদাখে মাঝে মধ্যেই দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে সম্প্রতি চারটি স্থানে চীন ও ভারতের মধ্যে দৃশ্যত যুদ্ধাবস্থাও তৈরি হয়।

লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ প্রায় তিন হাজার ৪৮৮ কিলোমিটারজুড়ে চীন-ভারত সীমান্ত অবস্থিত। দিল্লির দাবি, ২০১৫ সাল থেকে চীনা সেনারা দফায় দফায় ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই প্রকৃত সীমান্ত রেখা লংঘনের ঘটনা ঘটেছে চারটি জায়গা দিয়ে। এর মধ্যে তিনটি অবস্থিত পূর্ব লাদাখে ও একটি পশ্চিম সেক্টরে।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভি এক অনলাইন প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়ে বলছে, ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দফতরে দাখিল করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

মোদি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন আমলা এনডিটিভিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘আমাদের কয়েকজন সামরিক সদস্যকে আটক করা নিয়ে ভারতীয় জওয়ান ও চীনা সেনাদের মধ্যে গত বুধবার ভয়াবহ এক পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল সেখানে। তবে পরে অবশ্য আটক জওয়ানদের ছেড়ে দেয় চীনা সেনারা।’

শীর্ষ ওই আমলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ধস্তাধস্তি নয়; আইটিবিপি জওয়ানের অস্ত্রও কেড়ে নেয় চীনা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে পরে সেসব অস্ত্র ফেরত দেওয়া ছাড়াও ভারতীয় সেনা জওয়ানদের মুক্তি দিলে তারা দেশে ফিরে আসে। অপর এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ওই এলাকায় চীন অন্তত ১০০টি সেনা তাঁবু গেড়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো সামরিক বাহিনীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা সেনারা ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়ে ব্যাপক টহল চালায়। এছাড়া প্যাংগং লেকে মোটর বোট নিয়ে আক্রমণাত্মকভাবে তাদেরকে টহল দিতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিগত কয়েকদিন ধরেই ভারত-চিন সীমান্তে এই উত্তেজনা চলছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: