প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

ছাত্রদলের ‘সিন্ডিকেট সঙ্কট’, সমাধানে বৈঠক বিকেলে

   
প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ২৯ জুন ২০১৯

কমিটিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বয়সসীমা, ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমের কাউন্সিল করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বিলুপ্ত কমিটির একাংশ। এ কারণে সঠিক সমাধানে আসতে পারছে না বিএনপি। এদিকে ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে গঠিত সার্চ কমিটি ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। আজ শনিবার (২৯ জুন) বিকেলে স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডই হচ্ছে ছাত্রদলের সঙ্কট সমাধান। বিএনপি নেতাদের মতামত হচ্ছে, এই ছাত্রদলের মধ্যে রয়েছে নানা সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের কারণেই ছাত্রদলের এই সঙ্কট সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সঙ্কট সমাধান করতে গিয়ে মূল বিএনপিতেও সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

বিএনপির সূত্রে জানা যায়, সমাধান করতে চাইলে স্থায়ী কমিটির নেতাদের ক্ষমতাও দিতে হবে। সেক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও অভিভাবক সুলভ আচরণ করতে হবে। তাহলেই ছাত্রদল সমস্যার সমাধান হবে।

ঘনিষ্ট সূত্র আরও জানা গেছে, তারেক রহমান যেমন তফসিল অনুযায়ী কাউন্সিল করতে চান, তেমনি যাদের ত্যাগ ও যোগ্যতা আছে তাদেরও যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনে রাখতে চান। তিনি কাউকেই ফেলে দিতে চান না। তবে সমাধান না হলে ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বিএনপিতেই।

এদিকে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি নেতারাও মনে করেন ছাত্রদলের এই সঙ্কট সমাধান সহজ হবে না। এর কারণ হিসেবে বলেন, এর পেছনে হাওয়া ভবনের সাবেক দুই কর্মকর্তার পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে। তাদের মতো সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমানে বিএনপি নেতারাও পেছন থেকে উস্কে দিচ্ছে। তারেক রহমানের ‘অভিভাবক সুলভ’ হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আজ শনিবার বিকালে বৈঠকে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যুক্ত থাকবেন তারেক রহমানের।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম নেতা ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির পরামর্শে আমরা মনোনয়নপত্র বিতরণ বন্ধ রেখেছি। আমরা হয়তো সময় বাড়াব। যেহেতু দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উঠছে, তাই বৈঠককে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তারা পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তই দেবেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের সংঘর্ষ যাতে না হয় তা কৌশলে এড়িয়ে চলছি। তবে এর মধ্যে দলের স্বার্থে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।’

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) ইখতিয়ার কবির বলেন, ‘ফরম বিতরণ স্থগিত রাখায় শনিবার পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছি।’

আন্দোলনকারী ছাত্রদল নেতারা বলেন, হাওয়া-ভবনের সাবেক কর্মকর্তারা দেশে-বিদেশে থেকে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কলকাঠি নাড়েন। এদের সঙ্গেই বিএনপি নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ। তাদের ঘিরেই বিএনপিতে রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বলে পরিচিত হওয়ায় তাদের কথার বাইরে কেউ যেতে পারেন না। কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন তাও নির্ধারণ করে এসব সিন্ডিকেট। এছাড়াও বিএনপিতে সিনিয়র নেতাদের সিন্ডিকেট তো আছেই। এসব সিন্ডিকেটই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানকে বিভ্রান্ত করে।

এদিকে বিলুপ্ত কমিটির এক সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক বলেন, বিএনপি হাইকমান্ডকে একটি সিন্ডিকেট ভুল বার্তা দিচ্ছে। হাইকমান্ডকে বুঝানো হচ্ছে আমরা দল ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। কিন্তু আসলে তা নয়। আমরাও তারেক রহমানের নেতৃত্ব রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু ওই সিন্ডিকেট মহানগরের একাধিক নেতাকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে নয়াপল্টন থেকে সরানোর জন্যও বলেছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। কিন্তু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে যারা সংঘর্ষ বাধানোর ষড়যন্ত্র করছেন তারা হাইকমান্ডের কখনো শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না। এতে সমস্যা আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করি।’

এসএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: