প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

ছেলের মরদেহ ফেরত পেতে বৃদ্ধা মায়ের আকুতি

   
প্রকাশিত: ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ, ২৯ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে পশ্চিমবাংলার দমদম সেন্ট্রাল জেলে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত মামুন হোসেনের বৃদ্ধা মা মাফুজা খাতুনের আহাজারি থামছেই না। জন্মভূমি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সন্ন্যাসখোলা গ্রামের মানুষ এই হত্যার বিচার এবং দ্রুত দিনমজুর মায়ের কাছে মামুনের লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মামুনের পরিবার জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম সেন্ট্রাল জেলে করোনার কারণে বন্দি মুক্তির তালিকা নিয়ে কারা পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাতক্ষীরার মামুন হোসেন (২৯)।

তার মা মাফুজা খাতুন জানান, ১৯৯১ সালে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত উপজেলা দেবহাটায় মামুনের জন্মের চার মাসের মাথায় ট্রাকের চাপায় তার বাবা দিনমজুর কাশেম গাজী নিহত হন। সে ঘটনার বিচার পাননি তিনি। এরপর লোকের বাড়িতে, রাস্তাঘাটে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান তিনি। ছেলেও বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেননি। ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন ইটের ভাটাতে কাজ করেছেন। সাত বছর আগে ভারতে ইটের ভাটায় কাজের সন্ধানে যান মামুন। সেখানে একটি মোবাইল চুরির ঘটনায় পুলিশ মামুনকে সন্দেহজনকভাবে ধরে নিয়ে যায়।

তিন বছর ধরে মামলাটি চলছে। কিন্তু মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং মামলা চালিয়ে নেয়ার মতো কেউ না থাকায় বন্দি থাকতে হয়েছিল মামুনকে। জামিনের জন্য অনেকবার ভিসা করে ভারতে গেছেন মা মাফুজা।

তিনি বলেন, ছেলে মামুন বারবার বলেছে মাগো আমাকে মুক্ত করে নিয়ে যাও। সামান্য মোবাইল চুরির সন্দেহভাজন আসামির এতদিন জেল হতে পারে না। ভালো উকিল ধরো।

তিনি বলেন, মাসজুড়ে দিনমজুরির হাড় ভাঙা পরিশ্রমে যে আয় করেছি সব টাকা বসিরহাটের হান্নান ও পাপ্পু উকিলের হাতে দিয়েছি। শুধু বলতো সামনের মাসে জামিন হবে। কিন্তু জামিন করাতো না। এরইমধ্যে বৈশ্বিক মহামারি করোনার আতঙ্কে দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দি-পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হন মামুন।

মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত বলেন, কারা অভ্যন্তরে এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে মানুষের জীবনের নিশ্চিত নিরাপদ হবে। সেখানে এমন গুলি করে হত্যার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সুতরাং ঘটনাটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত ও বিচার দাবি জানাচ্ছি।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: