জন্মলগ্ন থেকে উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার শূন্য বশেমুরবিপ্রবি

   
প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, ২৭ জুলাই ২০২০

আশরাফুল আলম,বশেমুরবিপ্রবি থেকে: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(বশেমুরবিপ্রবি) শূন্য রয়েছে চ্যান্সেলর ভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হবে এমন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার এর মত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ। ২০১৯ সালের ৩০সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন পদত্যাগের পর প্রায় ১০মাস যাবৎ উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান। তাছাড়া বাকি দুটি পদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রদান করা হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি পদ ছাড়াও শূন্য রয়েছে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা, একুশে ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিনের পদও। এছাড়া রেজিস্ট্রার সহ চারটি অনুষদের ডিনপদে নিয়োগকৃতদের সকলেই রয়েছেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত। আর বশেমুরবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক রয়েছেন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত।

তবে বশেমুরবিপ্রবির শূন্যতার তালিকা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। তিনটি ইনস্টিটিউটের মধ্যে দুটি ইনস্টিটিউটেরই গভর্নিং বডি নেই এবং ৩৪ টি বিভাগের মধ্যে একটি বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদন ই নেই। ২৯ টি বিভাগে নেই অধ্যাপক। আর তিনটি বিভাগ এবং একটি ইনস্টিটিউটের নেই নিজস্ব কোনো শিক্ষক। গেস্ট টিচারের মাধ্যমেই চলছে এসকল বিভাগ ও ইনিস্টিউটের শিক্ষা কার্যক্রম।

এসব কিছুর বাইরেও ঘাটতি রয়েছে ক্লাসরুম, ল্যাবরুম এবং আবাসন। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩৪ টি বিভাগের মধ্যে অন্তত ২০ টি বিভাগের রয়েছে ক্লাসরুম সংকট এবং ১০ টি বিভাগের রয়েছে ল্যাব সংকট। এছাড়া শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচটি হলে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২,০০০ শিক্ষার্থী, যা শতকরা হিসেবে মাত্র ১৬ শতাংশ। তবে এসকল হলে রিডিং রুম না থাকা, হল লাইব্রেরি না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এসব কিছুর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নিয়েও। আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উজ্বল মন্ডল বলেন, “এটি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক বিষয় যে, প্রায় ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইন গেট, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি, এমনকি নেই কোনো ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র বা ক্যান্টিনও।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান এমন পরিস্থিতির জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা দায়ী করছেন সাবেক উপাচার্যের অপরিকল্পিত এবং স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তকেই। সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করেই একের পর এক নতুন বিভাগ খোলা এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই এসব সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিষয়গুলো সম্বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ পদেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। উপাচার্য নিয়োগের পরবর্তীতে হয়তো এসকল বিষয়ের সমাধান হবে।”

এসময় তিনি উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপ-উপাচার্যের প্রয়োজন হয় এবং বর্তমানে আমাদের যে পরিমাণ শিক্ষার্থী রয়েছে তাতে এই পদে নিয়োগ দেয়া হলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুভ হবে। তাছাড়া ট্রেজারার থাকলে উপাচার্য এক কেন্দ্রীক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননা এবং সমন্বিত সিদ্ধান্তের ফলে সিদ্ধান্তগুলোও সুদূরপ্রসারী হয়।”

প্রসঙ্গত, ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতি বিভাগে ৩২ জন করে মোট ১৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ৭ টি অনুষদ এবং ৩ টি ইনিস্টিউটের অধীনে প্রায় ১২,০০০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছে এবং আসন সংখ্যার দিক থেকে বর্তমানে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: