জরুরি রোগীদের করোনা পরীক্ষায় জিন এক্সপার্ট মেশিন ব্যবহার শুরু

   
প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ৫ জুলাই ২০২০

করোনা পরীক্ষা ছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। নমুনা দিতে পারলেও রিপোর্ট পাচ্ছেন না অনেকেই। যক্ষা শনাক্তের জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে হবে করোনা পরীক্ষা। আর রিপোর্ট পাওয়া যাবে মাত্র একঘণ্টায়। ক্যান্সার আক্রান্ত কিংবা জরুরি অস্ত্রোপচার দরকার এমন ব্যক্তিদের করোনা পরীক্ষার জন্য আর ঘুরতে হবে না হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। রাজধানীর ১০টি হাসপাতালে হবে এ পরীক্ষা।

মনোয়ারা বেগমের ২০১৯ সালে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। কথা ছিলো চারটি কেমো থেরাপির পর অস্ত্রোপচার করা হবে। তিনটি কেমো দেয়া শেষ হলেও করোনা পরীক্ষা করাতে না পারায় চতুর্থ কেমো দেয়া সম্ভব হয়নি। ৩০শে মে মগবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল কমিউনিটি সেন্টারের অস্থায়ী বুথেও নমুনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রিপোর্ট না পাওয়ায় একই জায়গায় ১৩ই জুন আবার নমুনা দিয়েছেন। কিন্তু তারও রিপোর্ট মিলেনি।

মনোয়ারা মতো এমন ভুক্তভোগীর সঠিক সংখ্যা জানা না থাকলেও অহরহ এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে যক্ষা নির্ণয়ের জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে করোনার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরো ৭টি হাসপাতালে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা শুরু হবে।

জাতীয় বক্ষব্যাধী ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহেদুর রহমান খান বলেন, ফরেনসিক সার্জারি, হার্ট বা গাইনি যে অপারেশনই হোক না কেনো এই মেশিনের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব। আমরা আরটিপিসিআর যখন করি তখন তা অনেক সময়ের ব্যাপার হয়ে যায়। আর এই টেস্টের সঙ্গে অন্যান্য টেস্টের অনেক পার্থক্য আছে।এই মেশিনের মাধ্যমে খুব দ্রুত এবং সহজেই এই টেস্ট করা যায়।

এই পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষার জন্য সেপিড কোম্পানির কিট লাগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কিট পাওয়া গেছে। আরো ৩০ হাজার কিটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গ্লোবাল ফান্ড।

জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম সাদী বলেন, এই কিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগে।আর পুরো সবকিছু শেষ করতে পয়তাল্লিশ মিনিটের মত লাগে। এর মানে হচ্ছে একঘন্টার মাধ্যমেই আমরা রোগীর হাতে রিপোর্ট দিতে পারি। ১৬ এবং চার মডিউলের মেশিন আছে। এগুলো সমস্ত ভার্সন দিয়ে একঘণ্টার সাইকেলে আমরা প্রায় বারশো পরীক্ষা করাতে পারবো। আমরা যদি ছয়টি সাইকেল চালাই তাহলে এই মেশিন দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টেস্ট করানো সম্ভব।

দেশে ২৫০টি জিন এক্সপার্ট মেশিন রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার ইনস্টল করেই ওই কিট ব্যবহার করে এসব মেশিন দিয়ে করোনা পরীক্ষা করা যাবে। ফলে জরুরি রোগীদের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জিন এক্সপার্ট মেশিনে করোনা পরীক্ষা করে ভোগান্তি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।- ডিবিসি নিউজ।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: