জাতীয় সংসদের হুইপ ও এমপির গাড়িতে ঘুরতেন গোল্ডেন মনির

   
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, ২৫ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

হুইপ আতিক ও সাবেক এমপি আক্কাস আলী সরকারের বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করতেন গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রী। গোল্ডেন মনিরের বাসার গ্যারেজে এখনো পড়ে আছে বিলাসবহুল দুটি গাড়ি। তার একটি জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিকের। অন্যটি সাবেক এক এমপির। গাড়ি দুটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় দেশে আসে। এগুলো ব্যবহার করতেন গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রী। হুইপ ও এমপির ভাষ্য- ব্যবহারের জন্য নয়, মেরামতের জন্য দেয়া হয় গোল্ডেন মনিরের কাছে।

রাজধানী মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ১১ নম্বর সড়কের ছয়তলা বাড়িটি গোল্ডেন মনিরের। শনিবার এই বাড়িতেই হঠাৎ অভিযান চালায় র‌্যাব। তখনই আলোচনায় আসে প্লট জালিয়াতি ও স্বর্ণচোরাচালানের অন্যতম মূলহোতা গোল্ডেন মনিরের নাম।

অভিযানের পর তার গাড়ি ব্যবসার কথাও জানা যায়। তবে, বাড়িতে থাকা দুটি গাড়ি নিয়ে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল গাড়ি দুটো ব্যবহার করতেন গোল্ডেন মনির। তবে, এ বিষয়ে বাসার কেউ এখন কথা বলতে রাজি নন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫৭০০৭ নম্বরের গাড়িটি শেরপুরের সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিকের। ২০১৭ সালের ২০শে আগস্ট নিবন্ধন হওয়া গাড়ির ঠিকানা মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ন্যাম ভবন। যা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই গাড়ি ব্যবহার করে নিজেকে হুইপ পরিচয়ও দিতেন মনির। তবে, হুইপের দাবি, মেরামত করে দিতে মনিরকে গাড়িটি দিয়েছিলেন তিনি।

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, আমি আমার গাড়িটি ঠিক করার জন্য গ্যারেজে দিয়েছিলাম। আমি জানতাম না যে সে এইটা ব্যবহার করতো,তবে মাঝে মধ্যে সে ট্রায়াল দিত। এইটা নতুন গাড়ি কিন্তু হঠাৎ করে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়িটি নিরাপদে রাখার জন্য আমি তার গ্যারেজে রাখি।

আর ঢাকা মেট্রো ঘ-১৭-৪৪৪৪ নম্বরের গাড়িটির নিবন্ধন কুড়িগ্রামের সাবেক এমপি আক্কাস আলী সরকারের নামে। ২০১৯ সালের ১০শে ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন হওয়া গাড়ির ঠিকানা বারিধারা জে-ব্লকের ৭৪ নম্বর প্লট। যা গোল্ডেন মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা এই গাড়িটি ব্যবহার করতেন গোল্ডেন মনিরের স্ত্রী। আক্কাস আলী সরকারও মনিরকে গাড়িটি মেরামতের জন্য দেয়ার কথা বলছেন। তবে এখন মামলা করার চিন্তা করছেন তিনি।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি আক্কাস আলী সরকার বলেন, আমি তার কাছ থেকে দুইটা গাড়ি কিনেছিলাম। কিছুদিন পর গাড়িগুলো সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন আমি আমার লোক দিয়ে তার শো-রুমে গাড়িগুলো পাঠিয়েছিলাম ঠিক করার জন্য। এখন সে ইঞ্জিন বদলিয়ে গাড়িটি ব্যবহার করছে। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব এই বিষয়ে।

অভিযানের পর শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ির কথা জানানো হলেও জব্দ তালিকায় নেই গাড়িদুটি। এমনকি দুটি গাড়ি এখনো গোল্ডেন মনিরের বাড়িতেই পড়ে আছে।সূত্র: ডিবিসিনিউজ।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: