আরেফিন সোহাগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নৈশ প্রহরী মুসলিম

জ্বীনে মাঝে মাঝে ভয় দেখায়

   
প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

মুসলিম হোসেন। বয়স ৬০ এর কাছাকাছি। পেটের তাগিদে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসেন দশ বছর আগে। রিকশা, কুলির কাজসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করেছেন এই বৃদ্ধ। বর্তমানে তিনি ‘পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি’র নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত। রাত ১২টা বাজলেই কানে বাজে মুসলিম হোসেনের বাঁশির আওয়াজ। এই ভাবে ভোর ৬টা পর্যন্ত নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অন্যের জান-মালের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন মুসলিম হোসেনসহ আরও ৩৫ জন নৈশ প্রহরী।

রাত জেগে অন্যের নিরাপত্তা দিয়ে তিনি কত টাকা আয় করেন এবং নৈশ প্রহরীর কাজ করতে গিয়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা এ নিয়ে কথা বলেন বিডি২৪লাইভ’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগের সাথে।

বিডি২৪লাইভ: রাত জেগে কাজ করতে কেমন লাগে আপনার কাছে?
নৈশ প্রহরী মুসলিম হোসেন: আমরা রাত জেগে মানুষের সেবা করি। আমার কাছে ভালো লাগে যে আমি মানুষের নিরাপত্তা দিচ্ছি। কিন্তু মাস শেষে আমরা টাকা পায় ৭ থেকে ৮ হাজার। আমাদের দিকে সরকার বা উপরের কেউ তাকায় না। শুধু আশ্বাস দিয়ে যায়।

বিডি২৪লাইভ: ডিউটি দেয়ার সময় কি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?
নৈশ প্রহরী মুসলিম হোসেন: রাতের কাজ করি, সমস্যাতো হবেই। বেশি সমস্যা হয় ব্যাচেলারদের নিয়ে। এরা রাতে রাস্তায় আড্ডা দেয়, গভীর রাতে বাসায় ফিরে। অনেক সময় রাস্তায় মাতলামি অবস্থায়ও আমরা দেখি। তারপর মনে করেন, রাতে একা একা চলাচল করা যায় না। জ্বিনে ভয় দেখায় মাঝে মাঝে। এই সব সমস্যা হয়।

বিডি২৪লাইভ: আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কি আপনারা পান?
নৈশ প্রহরী মুসলিম হোসেন: জ্বি, আদাবর থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আমাদের খোঁজ খবর নেন। মাসিক মিটিং হয়। আমাদের নির্দেশ দেন কী কী করতে হবে আমাদের। এরপর মনে করেন মাঝে মাঝে পুলিশের টহল-টিম আমাদের কাছে আসে।

বিডি২৪লাইভ: এই যে অল্প বেতনে কাজ করে সংসার চালান কি ভাবে?
নৈশ প্রহরী মুসলিম হোসেন: আমি তো শুধু এই কাজ করি না। রাতে ডিউটি করি আর দিনে রিকশা চালায়, বা বাজারে কাজ করি। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো যায়। সরকার সব কিছুর বেতন বাড়ালেও আমাদের বেতন বাড়ে না। আমরা কার কাছে বলবো? শুধু আমি না আমার মত সবাই এই কাজের পাশাপাশি অন্য কাজ করে।

বিডি২৪লাইভ: আপনার ভবিষ্যৎ ইচ্ছে কী?
নৈশ প্রহরী মুসলিম হোসেন: সরকারের কাছে আমাদের এই চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানাই। আমাদের বেতন বাড়লে অন্য কোন কাজ করা লাগবে না। পেটের দুঃখে আমরা এই কাজ করি। আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করি। অথচ আমাদের দিকে কেউ নজর দেয় না।

এএস/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: