ঝোপঝাড়ের আগ্রাসনে বশেমুরবিপ্রবির কোটি টাকার আসবাবপত্র

   
প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

আশরাফুল আলম, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ক্রয়কৃত হোস্টেল বেডের স্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে হওয়ার কথা থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে সরকারি টাকায় কেনা প্রায় ৮০০ বেড। দীর্ঘদিন অযত্ন অবহেলায় পড়ে থেকে রোদ, বৃষ্টি এবং ধুলোবালির কারণে এসকল বেডের অধিকাংশতেই মরিচা পড়ে গেছে। এমনকি বেডগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ঘন ঝোপঝাড়ও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বশেমুরবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কেনা টাকার হিসেবে এসকল বেডের মূল্য ১ কোটিরও বেশি। মূলত যে পরিমাণ চাহিদা ছিলো তার তুলনায় অনেক বেশি আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে যেগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। আর এর ফলেই এসকল আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের অংশে প্রায় ৫০০ টি এবং পেছনের অংশে প্রায় ৩০০ টি স্টিল নির্মিত বেড ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও এসকল বেডকে ঘিরে এতটাই ঘন ঝোপঝাড় তৈরি হয়েছে যে বেডগুলোর অবস্থান নির্ণয় করাই কঠিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও ওয়ার্কস দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বশেমুরবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দু’বছরে এসকল বেড ক্রয় করা হয়েছে। এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে একটি ও খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে ১০ টি ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৪৪,৮২৭,৬২৫ টাকা মূল্যে ২৬৭০ টি হোস্টেল বেড ক্রয় করা হয়েছিলো, যার প্রতিটি বেডের গড় মূল্য প্রায় ১৬,৭৮৯ টাকা। এর মধ্যে ২০১৯ এর ২৮ মে এবং ২৬ জুন দু’দিনেই ১৯৪৫ টি বেড ক্রয় করা হয়েছে। তবে এই সময়ে নতুনভাবে ৪০০ আসনবিশিষ্ট মাত্র দুটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ এর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর জুলাই পর্যন্ত পূর্বনির্মিত হলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস হল থেকে ২০টি বেডের চাহিদা জানানো হয়েছিল।

সব মিলিয়ে কাগজ-পত্রে মাত্র ৮২০ টি বেডের চাহিদা পাওয়া হেলেও প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড অর্ডার করা হয়েছে। আর এই অতিরিক্ত বেড ক্রয় করায় এখন সরকারি টাকায় কেনা প্রায় ৮০০ বেড। অর্থাৎ ২৯.৯৬% বেড নষ্ট হচ্ছে যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৩,৪৩১,২০০ টাকা। আর এভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেড ক্রয় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদ রণি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া মেনে নেয়া যায় না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পণ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক এবং অতিরিক্ত পণ্য ক্রয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন নির্মিত হলগুলোর জন্য ১০০০-১৫০০টি বেড যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু প্রয়োজনের অনেক বেশি সংখ্যক পণ্য অর্ডার করায় জনগণের ট্যাক্সে কেনা পণ্যগুলো এখন নষ্ট হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ১৯৪৫ টি বেডের ওয়ার্ক অর্ডার প্রদানকারী প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. এম. এ. সাত্তার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন আমাকে যেখানে স্বাক্ষর করতে বলেছেন আমি সেখানে স্বাক্ষর করেছি। তবে তিনি যখন আমাকে অগ্রিম অর্থ প্রদানেরও নির্দেশ দেন তখন আমি প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করি।’

আসবাবপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘স্টোরের জায়গা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে গত দু’বছরে বেশ কয়েকবার চিঠি প্রদান করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ইতোমধ্যে আমরা কাঠের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তবে এখনও স্টোরের জায়গা পর্যাপ্ত নয়। স্টোরের জায়গা বৃদ্ধি পেলেই অবশিষ্ট আসবাবপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ সম্ভব হবে।’

পড়ে থাকা এসকল আসবাবপত্রের বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. এ.কিউ.এম মাহবুব বলেন, ‘এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোপার্টি, জনগণের প্রোপার্টি, দেশের প্রোপার্টি। এগুলো এভাবে নষ্ট হতে দেখে আমি অত্যন্ত মণক্ষুণ্ন। কিন্তু এ বিষয়ে আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিবো না। রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং এর মাধ্যমে এ সকল আসবাবপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: