প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

টাকার বিনিময়ে চান্দুর হাতে বোনকে দিয়ে গিয়েছিল স্মৃতি!

   
প্রকাশিত: ১:০১ পূর্বাহ্ণ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন সুপারিওয়ালাপাড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক ছাত্রলীগ নেতা চান্দু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খাইরুল আমীনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চান্দু মিয়া।

জবানবন্দিতে চান্দু মিয়া উল্লেখ করেন, ১ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিকটিম কিশোরীর চাচাতো বোন স্মৃতি ও নুরী আক্তার ওই কিশোরীকে চান্দু মিয়ার বাসায় দিয়ে যায়। এর আগেও বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন নারীদের চান্দু মিয়ার কাছে নিয়ে আসতেন নুরী আক্তার।

২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ডবলমুরিং থানাধীন সুপারিওয়ালাপাড়ায় একটি বাসায় ধষর্ণের শিকার হন ওই কিশোরী। এ ঘটনার পর পুলিশ নুরী আক্তার (২০) ও তার স্বামী মো. অন্তর (২২) এবং রাজিব হোসেনকে (২০) গ্রেফতার করে।

পরে মঙ্গলবার ভোরে পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত চান্দু মিয়াকে গ্রেফতার করে ডবলমুরিং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অর্নব বড়ুয়া নেতৃত্বে একটি টিম।

ডবলমুরিং থানার এসআই নুরুল ইসলাম জানান, চান্দু মিয়া ক্ষমতাসীন রাজনীতির দলের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্নভাবে সে এলাকায় ক্ষমতাশালী। তার চার তলা বাড়িতে ভাড়া থাকেন নুরী আক্তার ও তার স্বামী। নুরী আক্তার বিভিন্ন সময় চান্দুকে তরুণী জোগান দিয়ে আসছিল। সে নিজেও অসামাজিক কাজে লিপ্ত। এরই ধারাবাহিকতায় ওই স্কুলছাত্রীকে চান্দু মিয়ার হাতে তুলে দেন নূরী।

গত বৃহস্পতিবার ফেনী থেকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ফুফুর বাসায় বেড়াতে আসেন অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী। দশম শ্রেণি পড়ুয়া ফুফুর এক মেয়ের সঙ্গে গত রোববার সন্ধ্যায় বেড়াতে যান ওই স্কুলছাত্রী। তাদের সঙ্গে দেখা হয় নুরী আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে। নূরী স্কুলছাত্রীর ফুফাতো বোনের বান্ধবী। নুরি তাদের আগ্রাবাদের সুপারিওয়ালা পাড়ার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিজের কক্ষে না নিয়ে চান্দু মিয়ার কক্ষে নিয়ে যান। অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে চান্দুর কক্ষে জোর করে আটকে রাখা হয়। বাইরে অস্ত্রের মুখে রাখা হয় আরেক স্কুলছাত্রী তার ফুফাতো বোনকে। এরপর বাসার ভেতরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে পাহারায় ছিল নুরী আক্তার। চান্দু মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওই কিশোরীকে কাউকে কিছু না বলতে হুমকি দিয়ে মারধর করে স্মৃতি আর নুরী আক্তার। ওই কিশোরীর মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নিয়ে ফেলে তারা। ঘটনার পর নুরী ওই স্কুলছাত্রীকে তার ফুফুর বাসায় পৌঁছে দেয়। কিন্তু বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে স্কুলছাত্রীকে বাসার লোকজন জিজ্ঞাসা করলে তিনি সবকিছু খুলে বলেন।

তখন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেয়া হয়। সেখান থেকে ডবলমুরিং থানায় খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর নুরীর কাছে মোবাইল নিতে এসে গ্রেফতার হন স্বামী অন্তর। চার দিন আগে তাদের বিয়ে হয়।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: