প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ফরমান শেখ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের আতঙ্ক নারায়ণগঞ্জ!

   
প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ণ, ১০ এপ্রিল ২০২০

নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন দপ্তরে টাঙ্গাইলের লোকজন যারা ওই এলাকায় কর্মরত ছিলেন তারা লুকিয়ে চলে আসছেন। এতে করে টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। যদিও টাঙ্গাইল জেলার প্রবেশ মুখে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এই অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ এখন টাঙ্গাইলবাসীর জন্য আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে।

তারপরও রাতের আঁধারে বিভিন্ন কৌশলে টঙ্গাইলের বিভিন্ন গ্রামে নারায়ণগঞ্জে থেকে লোকজন ঢুকছে। এর মধ্যে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী, রাউৎবাড়ি, মির্জাপুরের ভাওড়া, বাসাইলের ময়থা গাছপাড়া, কাশিল, ঢংপাড়া, বাসাইল পালপাড়াসহ জলার বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে।

এছাড়াও তাবলিক জামাতের লোকজনও চলে আসছে নিজ বাড়িতে। তাদের মধ্যে মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া গ্রামে অখিল সরকার নামে একজন ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের ৩০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে তাকে ঢাকায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি ক্লিনিকে চাকরি করেন।

গত রোববার তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে মির্জাপুরে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তার করোনা শনাক্তের বিষয়টি জানতে পারেন উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেকের নেতৃত্বে চিকিৎসকসহ একটি প্রতিনিধি দল তাকে ঢাকায় পাঠায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাকসুদা খানম বলেন, তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। মির্জাপুরের ইউএনও মো. আবদুল মালেক জানান, করোনা শনাক্তের পর তাকে ঢাকায় পাঠাতে রাতে তারা ওই রোগীর বাড়ি যান। কিন্তু আক্রান্ত অখিল কর্মকর্তাদের সাথে যেতে রাজি হচ্ছিল না। তিনি বলতে থাকেন, অসুস্থ হয়ে মারা গেলেও তিনি বাড়িতেই থাকতে চান। অবশেষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের সহায়তায়ে তাকে ঘর থেকে বাইরে বের করা হয়। পরে রাতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আক্রান্ত আখিলের বাড়ির আশপাশের ৩০-৩৫টি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: