ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক স্কিম বিনিয়োগে দুঃসংবাদ

   
প্রকাশিত: ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, ২৯ মে ২০২০

সরকারের সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় কমানো এবং আমানতকারীদের ব্যাংকে পাঠাতে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে বিনিয়োগের সীমা দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ডাকঘর সঞ্চয় হিসাবে একক নামে ১০ লাখ টাকা আর যৌথ নামে ২০ লাখ টাকা রাখা যাবে। যা আগে ছিল যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ৬০ লাখ টাকা। প্রজ্ঞাপনে তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৮ মে এবং ওই তারিখ থেকেই আদেশ কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের বিক্রির চাপ কমাতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে মুনাফার উপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে কোনো সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না মর্মে শর্ত আরোপ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারিতে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করার ঘোষণা দেয়া হয়। সমালোচনার মুখে পরে অবশ্য সে ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। এখন এই সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের সীমা তিন ভাগের দুই ভাগই কমিয়ে দেয়া হল।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, ব্যাংক আমানতে সুদহার এখন ৬ শতাংশ। আর ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের কিংবা সঞ্চয়পত্রে সুদহার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তার খাত হিসেবে বিবেচিত এ খাতে অনেক ধনী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করছে। পাশাপশি এ খাত থেকে ঋণ নিলে সরকারকে বেশি পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাই ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের সীমা কমিয়ে দিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে সংসদের ভেতরে, বাইরে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। সমালোচনার মুখে গত ১৭ মার্চ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের সুদ হার বহাল রাখা হয়।

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদহার হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া, তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। দুই বছরের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: