প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

ডাবিং রুমে সালমান-শাবনূর ঘনিষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না: সেই ছবির পরিচালক

   
প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

গেল কিছুদিন যাবত সালমান শাহ’র মৃ’ত্যু নিয়ে দেশে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে সালমান শাহ’র মৃ’ত্যুকে আত্মহ’ত্যা বলে পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার পরেই উক্ত তদন্ত নিয়ে উঠে নানা প্রশ্ন। সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী ও সালমানের মামা এই প্রতিবেদনকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেন। প্রতিবেদনের একটি অংশে বলা হয়, সালমান শাহ যেদিন আত্মহ’ত্যা করেন, তার আগের দিন এফডিসির ডাবিং থিয়েটারে শাবনূরের সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখেছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরা। সেদিন ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিং চলছিল। এ নিয়ে সালমান-সামিরার কলহ চরম আকার ধারণ করলে মানসিক যন্ত্রণা সইতে পেরে আত্মহ’ত্যার পথ বেছে সালমান। কিন্তু পিবিআইর দেয়া প্রতিবেদনের এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ প্রমাণ করেছেন ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার পরিচালক রেজা হাসমত। তার মতে, ‘সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে সামিরা চলে গেছে, এমন কোনো অবস্থা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

সেদিন ডাবিং রুমে সালমান-শাবনূর ও সামিরার মধ্যে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ঢাকার একটি দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেন পরিচালক রেজা হাসমত। তিনি বলেন, ‘সেদিন সালমান-শাবনূর মনিটরিং করছিল, ডায়লগগুলো পড়ছিল, তখন ডাবিং রুমের দরজাও খোলা ছিল। সামিরা ও সালমানের বাবা আমার ডাবিং রুমে একসঙ্গে এসেছিলেন। এসেই সামিরা আমার রুমে ঢোকেন।’ এই পরিচালক বলেন, ‘কিন্তু সেখানে আসার পর সামিরা দেখল, সালমান-শাবনূর মনিটরিং করছে। আমি ওদের বলছিলাম, এটা এভাবে না, ওভাবে। তখন সামিরা বুঝতে পারে, ভেতরে আপাতত ডাবিং হচ্ছে না। তখন ও ওই ডাবিং রুমে ঢুকে পড়ে। আমার ওই রুমটায় তখন আবুল ছিল, আমার অ্যাসিস্টেন্ট, সাউন্ড অ্যাসিস্ট করার একটা ছেলে ছিল। ওখানে অনৈতিক কিছু করার মতো অবস্থা ছিল না। হ্যাঁ, কথা বলতে পারে, তবে অনৈতিক কিছু করার মতো অবস্থা ছিল না।’ তারপর তিনি আরও বলেন, ‘পিবিআই যে কথাটি বলছে, সালমান ও শাবনূরকে ঘনিষ্ট অবস্থায় দেখে সামিরা চলে গেছে, এমন কোনো অবস্থা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

রেজা হাসমত বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ সকালে (১৯৯৬) সালমান শুটিংয়ে আসে। বিকাল বেলা ডাবিংয়ে ঢোকেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সে আমার এখানেই ছিলেন। এই ছিল ঘটনা। তারপর বাসায় গিয়ে কী ঘটেছে, সেটা আমি বলতে পারব না।’ হাসমত বলেন, ‘সাধারণত ডাবিং রুমগুলোতে আর্টিস্ট ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারেন না। তবে যদি কারও গেস্ট আসে তবে ডাবিং সেটের ডিরেক্টরের আসন থেকে উল্টোদিকে তাদের জন্য আলাদা জায়গা থাকে, যেখানে তারা এসে বসতে পারেন। সরাসরি তারা ডাবিং রুমে ঢুকতে পারেন না। ডাবিং চলা অবস্থায়ও কেউ তাদের রুমে ঢুকতে পারেন না। সেখানে একটি লাইট থাকে যেটা বন্ধ থাকলে বোঝা যায় ডাবিং চলছে। জ্বলে উঠলে বোঝা যায় ডাবিং বন্ধ রয়েছে। এ সময় আর্টিস্টরা স্ক্রিপ্টিং করেন। তখন কোনো গেস্ট চাইলে ওই রুমটিতে ঢুকতে পারেন।’ অন্যদিকে চিত্রনায়িকা শাবনূরের সাথে ঘনিষ্ঠতা সালমানের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে বলেছে পিবিআই। তদন্তের স্বার্থে চিত্রনায়িকা শাবনূরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তিনি পিবিআইকে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘কো-আর্টিস্ট হিসেবে যতটুকু ঘনিষ্ঠতার দরকার ছিল, তা-ই ছিল।’ শাবনূর জানান, ‘সালমানের সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং ছিল, সেসময় সালমানকে খুব স্বাভাবিকই লেগেছিল।’

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: