প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

ডেঙ্গু আতঙ্ক কিছুতেই কমছে না

   
প্রকাশিত: ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ, ২৪ আগস্ট ২০১৯

রাজধানীসহ সারাদেশে এখন এক আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার ভয় এখন শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালের ডাক্তার আর নার্সদের মধ্যেও। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড় বাড়ছেই। ডেঙ্গু পরীক্ষ করাতেও হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট নিতেও হাসপাতালগুলোতে মানুষের লম্বা লাইন চোখে পড়ার মতো।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায় রক্ত পরীক্ষার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমেছে। আবার রিপোর্ট নিতেও মানুষের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে।

শরীরে সামান্য তাপ অনুভব করলেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অনেকেই। ছুটছেন রক্ত পরীক্ষার জন্য। পরামর্শ নিচ্ছেন ডাক্তারের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হিসাব বলছে, গতকাল পর্যন্ত মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ জন চিকিৎসক ও ২২ নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা শহরে ৬৯ জন চিকিৎসক, ৮০ নার্স, ৫৩ জন সহকারীসহ মোট ২০২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন চিকিৎসক, ১১ জন নার্স ও ৪ জন সহকারী এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিনদিন প্রকট হচ্ছে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন দেশের মানুষ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাড়ি-ঘর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রতিদিন গুণতে হচ্ছে মৃতের সংখ্যা।

সরকারের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬২৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা শহরে ৭১১ ও ঢাকা শহরের বাইরে ৯১৫ জন। আর এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৯৯৫।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু সেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইমরান বলেন, এখনও প্রচুর লোক ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর জন্য আসছে। মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে খুব আতঙ্কে রয়েছে বলেই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, গতকালও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১১ জনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন।

এ পর্যন্ত বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ১৬৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে এই মৃত্যুর খবর জানা গেছে। সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭।

টিএএফ/এসইসি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: