প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: যা ঘটছে মাঠের প্রচারণায়

   
প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় প্রার্থীরা সৌহার্দ্যতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন । শনিবার কোথাও কোন সহিংসতার খবরও পাওয়া যায়নি। বরং অনেক প্রার্থীর মুখে অন্য প্রার্থীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তস্টি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের আশা ৩০ জানুয়ারি রাত বারটায় প্রচারণা শেষ ওয়ার পর ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠের পরিবেষ শান্ত থাকবে।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকাকে গুরুত্ব দিয়ে রোবরাব (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবো। তিনি বলেন, ইশতেহারের ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা ও তার সঠিক প্রয়োগই আগামীর প্রত্যাশিত ঢাকা গড়ার রূপকল্প, আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার।

আতিকুল বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নবাহু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল উন্নয়নের মহাসড়কে যে অগ্রযাত্রায় আমরা সামিল হয়েছি, সেই একই ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকাকেও আমরা গড়ে তোলার শপথে সোচ্চার, এই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার।

ঢাকা উত্তরে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, রাজধানীর বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে বারবার পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বস্তিবাসীরা অনেক কষ্টে আছেন। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে তাদের পুনর্বাসন করবো।

শনিবার মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ শুরুর প্রাক্কালে এসব কথা বলেন তাবিথ আউয়াল।

বিএনপি মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী বলেন, মিরপুরে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা চলছে। আমরা বিজয়ী হলে এসব নিমূর্লে কাজ করবো। কাউকে অন্যায় করতে দেওয়া হবে না। মিরপুর গার্মেন্ট শিল্প এলাকা। কিন্তু এখানে কর্মীদের নিরাপত্তা নেই। তাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করবো।

এসময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখার সমালোচনা করে তাবিথ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সঙ্গে কখনও আপোস করেন না বলেই মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ১ ফেব্রæয়ারি ধানের শীষে ভোট দিলে তা খালেদা জিয়ার পক্ষে যাবে। তাকে আটক রাখা যাবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন,

প্রতিদ্বদ্বী প্রার্থীরা অভিযোগ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন । তিনি বলেন, ঢাকার উন্নয়নে আমরা যে রূপরেখা প্রদান করেছি, ঢাকাবাসী তা ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন। আমরা যেখানেই নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে যাচ্ছি, সেখানেই জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে আগামী ২৮ অথবা ২৮ জানুয়ারিতে ঢাকাবাসীর উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে পারবো। আমি মনে করি আগামী পহেলা ফেব্রæয়ারি সিটি করেপোরেশনের নির্বাচন ঢাকাবাসীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ঢাকাবাসী উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একটি নবযাত্রার সূচনা করতে চাই।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঢাকাবাসী উন্নত ঢাকার জন্য নৌকা মার্কায় আমাকে রায় দিয়ে তাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

অন্যদিকে প্রতিদ্ব›দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ফজলে নূর তাপস একজন সজ্জন ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গোপীবাগে নিজ বাসার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ওনার প্রতি আবেদন থাকবে নির্বাচনে তিনি যাতে কোনো প্রভাব খাটানোর চেষ্টা না করেন। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবো রেজাল্ট যা হবে সেটাই মেনে নেবো। কিন্তু ভোটে কোনো কারচুপি হলে সেটা কোনোভাবে মানবো না।

তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাতিলের দাবি বাস্তবায়ন হবে কি না জানি না। আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে ইভিএম’র ভোট সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। কিন্তু আমাদেরতো ওই আশঙ্কাটা আছেই। ইভিএম’র ভোট সুষ্ঠুভাবে হবে না।

ডিএসসিসি’র ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার একজন কর্মী মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় ইশরাকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইশরাক বলেন, ওনার নাম আমিনুল ইসলাম। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারকালে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি আমার একজন কর্মী। গত কয়েকদিন আগে ওয়ারী থানা এলাকায় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়েছে। ডিএসসিসি’র ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলা করবে করুক, এটা আমাদেরও দেশ। কারোও জমিদারি নয়, কারো দখলদারিত্ব চলবে না। আমরা আমাদের মতো কাজ চালিয়ে যাবো।

এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, আমি বার বার বলে আসছি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী কোনো পরিবারের সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমাদের শক্তি হলো জনগণ। এ দেশটা কোনো পরিবারের সম্পত্তি না। জনগণ আমার ডাকে সারা দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে এ দখলদারিত্ব ও স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাবো।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: