প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

‘তাকিয়ে দেখলাম বাবা আর ভাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে’

   
প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, ৮ আগস্ট ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

নেত্রকোনার মদন উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র মিনি কক্সবাজার খ্যাত উচিতপুরের হাওরে ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবিতে গত বুধবার (৫ আগস্ট) প্রাণ হারান শফিকুল ইসলাম ও তার বড় ছেলে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মুসায়েব সামান আম্মার। নৌকায় সবাই যখন আনন্দ-উল্লাস করছিল, তখনই ঝড়োবাতাসে উল্টে যায় নৌকাটি। আমরা সবাই পানিতে ভাসছি। বাবা আমাকে পানি থেকে তুলে নৌকার ছইয়ের মাঝে রেখে যান বড় ভাই মুসায়েব সামান আম্মারকে আনতে। ভাইকে ধরে বারবার নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন।

বড় ভাইকে শেষপর্যন্ত নিয়ে নৌকায় আর উঠতে পারলেন না বাবা। তাকিয়ে দেখলাম বাবা আর ভাইকে স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে- এভাবেই বাবা আর বড় ভাইয়ের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেয় মো. জিল জাওয়ান জিবাবী। বাবা আর ভাইকে এখনও খুঁজছে জাওয়ান। চোখ খুললেই বলে, বড় ভাই সামান কই? ছোট ছেলেকে বাঁচাতে পারলেও, বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন বাবা হাফেজ মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ধোপাজাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পিতা-পুত্রের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দেশবরেণ্য আলেম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ হাজারও মুসল্লি জানাজায় অংশ নেন।

পিতা-পুত্রের মৃত্যুর খবরে আসা স্বজনরা যেন বাকরুদ্ধ; জাওয়ানের কথায় কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। জাওয়ানও বারবার খুঁজছে তার বড় ভাই আর বাবাকে।

ওকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও যেন কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না! শফিকুল ইসলাম ছিলেন ইসলামের প্রচারক, ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নিজ এলাকায় ২টি ও কেন্দুয়ায় আরও ২টি মাদরাসা স্থাপন করেন। স্বপ্ন ছিল নিজগ্রামে ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বিশাল মাদরাসা করবেন। যেখানে হাজারও আবাসিক শিক্ষার্থী একসঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করবে।

সেই স্বপ্ন পূরণ হল না। কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তার প্রিয় শিক্ষার্থী মো. তাসাদুল আহাম্মেদ। সে আরও বলে- হুজুর চেয়েছিলেন শুধু এলাকার লোকজন নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী এসে ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামে শিক্ষা নেবেন। শফিকুল ইসলাম এ গ্রামের আবুল কালাম আজাদের বড় ছেলে।

৫ আগস্ট (বুধবার) সকাল ৬টায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মুসায়েব সামান আম্মার ও ৩য় শ্রেণির ছাত্র মো. জিল জাওয়ান জিবাবীকে নিয়ে শফিক উচিতপুরের উদ্দেশে রওনা হন। ময়মনসিংহ থেকে আসা ওস্তাদ মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমানের নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এ আনন্দভ্রমণে বের হন তিনি।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পর্যটন কেন্দ্র মিনি কক্সবাজার খ্যাত উচিতপুরের হাওরে ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবিতে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উচিতপুরের সামনে হাওর গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। সেখানেই বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেন শফিকুল ইসলাম।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: