তালাক নিয়ে যা বলে ইসলাম

   
প্রকাশিত: ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতীকী

কোনো স্ত্রী স্বামীর অধিকার আদায় না করে; বরং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত হয়, তাহলে স্বামীর দায়িত্ব হলো তাকে সংশোধনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। তালাক দেওয়ার আগে ইসলামে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। স্বামী সেগুলো অনুসরণ করবে। তার পরও যদি স্ত্রীর মধ্যে কোনো পরিবর্তন না আসে, তাহলে চূড়ান্ত ফয়সালা তালাক দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারবে। চলুন জেনে নেয়া যাক তালাক নিয়ে কী বলে ইসলাম?

ইসলামে বিয়ে মানে আজীবনের জন্য বন্ধন। তবে তালাকের বিষয়েও সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে শান্তির এই ধর্ম। মানে বিভিন্ন বাস্তবতায় বিবাহবন্ধন বিচ্ছিন্ন করারও সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ইসলাম কখনোই বিবাহবন্ধন ছিন্ন করাকে উত্সাহিত করে না। বরং স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের মিল মহব্বত সৃষ্টি করা ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য নানা পন্থা ও উপায় বলে দিয়েছে।

তালাকের ফলে শুধু স্বামী-স্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, তাদের সঙ্গে দুটি পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং সন্তানের জীবনও ধ্বংস হয়। তাই অসহযোগিতার অবস্থায় প্রথমে একে অপরকে বুঝানো তারপর ভয়ভীতি প্রদর্শনের উপদেশ দেওয়া হয়েছে ইসলামে।

এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি এতে তারা বাধ্য হয়ে যায় তাহলে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান কর না। (সুরা নিসা : ৩৪)

এখানে অবাধ্যতা দেখা দিলে তিনটি কাজ করতে বলা হয়েছে। প্রথমে সুন্দরভাবে উপদেশ দিবে। তাতে কাজ না হলে স্ত্রীর শয্যা ত্যাগ করবে। তাতেও কাজ না হলে হালকা প্রহার করবে। এতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে উভয় পক্ষের পরিবার থেকে বিচক্ষণ ও সহানুভূশীল কয়েক জন লোক সালিশ নিযুক্ত করবে। ইসলাম আরও বলে, এতে কাজ না হলে তারা দু’জন দু’জনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। তাদের সংশোধনের চেষ্টা করবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআন মজিদে আরও বলেন, যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মতো পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ সবকিছু অবহিত। (সুরা নিসা : ৩৫)

সালিশ বা মধ্যস্থতা মানে দুই পরিবার যেটা মিমাংসার ব্যবস্থা করবে। ঘরোয়া বিষয়টি যেন অযথা মামলা-মোকদ্দমায় না গড়ায় এবং হাটেবাজারে চর্চিত না হয়। সালিশগণ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিবাদ মিটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে। যদি তা ব্যর্থ হয় এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত সুফল লাভের স্থলে উভয়ে একত্রে মিলেমিশে থাকাই মস্ত আজাবে পরিণত হয় তাহলে তালাকের সিদ্ধান্ত নেবে।

যদিও অপারগ অবস্থায় তালাকের বিধান দিয়েছে ইসলাম। যেন ঝগড়া-বিবাদের তিক্ততায় স্বামী-স্ত্রীর জীবন দুর্বিষহ না হয়। কিন্তু দিনশেষে ইসলাম তালাককে নিরুত্সাহিত করে।

হজরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবিজি (স) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট হালাল কাজ হলো তালাক। (সুনানে আবু দাউদ : ২১৭৮) একইসাথে কোরআনের কোথাও স্বামীকে, কোথায় স্ত্রীকে এমন সব উপদেশ দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে তাদের চিন্তায় পরিবর্তন আসে এবং তারা নিজেদের দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলতে আগ্রহী হয়।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: