প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ফরমান শেখ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

তিন বছর ধরে সমাজচ্যুত ভিক্ষুক হযরত আলীর পরিবার!

   
প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বসতবাড়িতে জোর করে খুঁটি স্থাপন কাজে বাধা দেয়ায় হতদরিদ্র ও অসহায় ভিক্ষুক মো. হযরত আলীর পরিবারকে তিন বছরেরও বেশী সময় ধরে সমাজচ্যুত করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে সমাজ প্রধান শাহিনুর ইসলাম ও রুহুল আমিন শিকদারে বিরুদ্ধে। উপজেলার লাউহাটি গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। অসহায় ভিক্ষক ওই গ্রামের মৃত মুক্তার আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজ প্রধান ব্যক্তিদের সাথে দেলদুয়ার শাখা ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি থেকে একাধিকবার মিমংসার চেস্টা করলেও কোন সমাধানে আসেনি শাহিনুর ও রহুল আমিন শিকদার। পরে ভুক্তভোগি পরিবার সুষ্ঠ সমাধানের চেয়ে গেল মাসের ২৪ আগস্ট দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

হযরত আলী অভিযোগে বলেছেন, ৩ বছর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে নিজের বসতবাড়িতে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জোরপূর্বক অবৈধভাবে বিদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করতে আসেন। এসময় আমার বড় ছেলে তালেব ওই খুটি স্থাপন কাজে বাঁধা প্রদান ও প্রতিবাদ করলে সমাজ প্রধান শাহিনুর ইসলাম ও রুহুল আমিন শিকদারের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তালেবকে মারধরও করে আমার বসতবাড়িতেই জোরে করে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করেন তারা।

অসহায় হযরত আলী আরও বলেন, খুঁটি স্থাপনে বাঁধা দেয়ায় টানা তিন বছর ধরে আমাদের সমাজচ্যুত করে রেখেছেন ওই দুই সমাজ প্রধান। শুধু তাই নয় বাড়ির চারপাশের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তাও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থা তুলে নিলেও এখনো আমাদের সমাজচ্যুত করে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, সমাজ থেকে কোরবানি ঈদেও আমাদের গোস্ত দেয়নি তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সমাজ প্রধান শাহিনুর জানান, সমাজচ্যুতের অভিযোগের বিষয়ে যা পারেন করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম খান ফিরোজ জানান, সমাজ প্রধান ব্যক্তিদের বার বার বলার পরেও তারা কারোও কথা শুনছে না। অনেক চেস্টা করেছি সুষ্ঠ সমাধানের জন্য।

দেলদুয়ার শাখা ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি সমন্বয়ক মোছা: লিপি খাতুন জানান, সমাজচ্যুতের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ গণমাধ্যম ফেসবুকে আমার নজরে আসে। পরে এ ব্যাপারে সমাজ প্রধান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মিমাংসার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কোন সমাধানে আসেনি। পরে অবশেষে আমার পরামর্শে এ বিষয়ে গত আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগি হযরত আলী।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাঙ্গাইল জেলা সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল জানান, বিষযটির ব্যাপারে অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগির অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষ সমাধান বিষয়ক কাজে প্রয়োজনে সহায়তা করা হবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: