প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনজুরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

তিন মাস যাবত পানিবন্দি ৫ গ্রামের মানুষ

   
প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই থেকেই সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি নামার জায়গা না থাকায় পুরো গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে করে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িতে উঠেছে পানি। পানি উঠার কারণে রান্নার চুলা ও টয়লেট পর্যন্ত পড়েছে পানির নিচে। এমন অবস্থায় চিড়ামুড়ি খেয়ে দিনপার করছেন ৫ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারনে শিশুরা ভোগছে বিভিন্ন রোগে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা বউ বাচ্চা নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছেন। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা খেয়ে না খেয়েই দিনপার করছেন। কেউ কেউ আবার গরু ছাগল নিয়ে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে এমনই অবস্থায় দেখা গেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৬ নং চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের বাজিতপুর, বড়বিলা ও আলালপুর, ৭ নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন রশিদপুর ও তারাকান্দা উপজেলার ১ নং তারাকান্দা ইউনিয়নের পুটামারা গ্রাম। ওই ৫ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীরা সরকারী খাল-বিল দখল করে গড়ে তুলেছে মাছের ফিসারী। যে কারণে পানি নামতে না পারার কারণে বাড়িঘরে পানি উঠেছে। রশিদপুরের বাউশী বিল প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ, প্রস্থ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার যার পুরোটাই প্রভাবমালীরা দখল করে ফিসারী গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়াও কাটাখালী খালও প্রায় প্রভাবশালীদের দখলে। ফিসারীর কারণে কাটাখালী খালের উত্তর পুর্ব মুখে বন্ধ করে দিয়েছে। যে কারণে পানি নামতে পারে না। স্থানীয়রা দাবি করেন, কাটাখালীখাল ও বাউশীবিল দখল মুক্ত করলে তাদের কষ্ট লাগব হবে।

গৃহিনী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। স্বামীকে নিয়ে দিনে একবেলা খেয়ে দিনপার করছি। রান্না ঘরের চুলাতেও পানি। পানি উঠেছে টয়লেটে। এ অবস্থায় আর পেরে উঠছি না। সরকার যদি আমাদের না দেখে, তাহলে আমাদের পানিবন্দি হয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

স্থানীয় নাঈব আলী বলেন, চারপাশে মাছের ফিসারী থাকার কারনে পানি নামতে পারে না। যে পুরো গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। আমরা এই পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।

ওয়াহেদ আলী নামে এক যুবক বলেন, পানিবন্দি অবস্থায় আমরা সবচাইতে বেশি বিপদে আছি শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্তা নারীদের নিয়ে। কেউ যদি গুরুতর অসুস্থ্য হলে আমরা তাদের কাধে করে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। এছাড়া হাস, মুরগি, গরু, ছাগলের খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

ফিসারী মালিক সুরুজ মিয়া বলেন, আমি তিন একর জায়গায় মাছ চাষ করি। ফিসারীর কারণে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়নি। তাহলে কেন জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে এর সদুত্তর তিনি দিতে পারেনি।

অপর ফিসারী মালিক বাবুল মিয়া বলেন, ফিসারীর কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে। এই কথাটা ঠিক না। কাটাখালী খাল যদি খনন করা হয়। তাহলে গ্রামবাসীর এই কষ্ট থাকবে না। তিনি কাটাখালী খাল খনন করার দাবি করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

রশিদপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, প্রায় তিন মাস যাবত আমরা পানিবন্দি জীবনযাপন করছি। আমাদের রাত কাটে সাপের আতঙ্কে, দিন কাটে শিশু সন্তান পানিতে পড়ার ভয়ে। ইতিমধ্যেই তিন বছর বয়সী সন্তান পানিতে পড়ে যায়। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারণে গ্রামের শিশুরা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছে। গ্রাম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই পানি পানিবন্দি অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।

এ বিষয়ে ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম রতন বলেন, গ্রামবাসীর দুর্ভোগের খবর পেয়ে গতকাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাগবের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল আমি নিজে ৬ নং চর ঈশ্বরদিয়ার বাজিতপুর, বড়বিলা ও আলালপুর, ৭ নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন রশিদপুর গ্রাম গুলো পরিদর্শন করে এসেছি। যত দ্রুত সম্ভব খাল গুলো উদ্ধার বা খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা সরকারী খাল-বিল (খাসজমি) দখল করে ফিসারী তৈরী করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে বা যারাই খাল-বিল দখল করে ফিসারী তৈরী করেছে। তাদের চিন্হিত করে নোটিশ দিয়ে খাস জমি উদ্ধার করা হবে। কেউ যদি আপোষে খাস জমি ছেড়ে না যায়। তাহলে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: