প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

জুলফিকার আলী ভূট্টো

নীলফামারী প্রতিনিধি

সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ

তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫৫সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

   
প্রকাশিত: ২:০৫ পূর্বাহ্ণ, ১৪ জুলাই ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

সোমবার রাত ১২টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যরাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। সকাল থেকে (৫২.৬০) ৫২ সেন্টিমিটার (৫৩.১২) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার রাত ১২টায় সেখানে পানি প্রবাহ ছিল বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার(৫৩.১৫) ওপরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ (ফ্লাডবাইপাস) এলাকাটি কর্মকর্তারা নজরদারী করা হচ্ছে। তিস্তার ব্যারাজ এলাকা ও এর আশপাশ এলাকায় রেড এলার্ট জারী করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এমন রুদ্রমূর্তিতে রাতে ব্যারেজ এলাকা ছুটে আসেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম। উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার অতিক্রম করে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সে থেকে বিপদসীমার ওপরে চলছে পানি প্রবাহ টানা চার দিনের ঢলে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার নদী বেষ্টিত পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছচাপনী, পশ্চিমছাতনাই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার ৪ দফায় বন্যা কবলিত হয়েছে এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজন গরু ছাগল, বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার অসংখ্য ফসলী জমির আমন বীজতলা, রোপিত আমনের রোপা তলিয়ে গেছে। বসতঘরগুলোতে প্রকারভেদে হাটু ও কোমড় সমান পানির স্রোতে বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের খামারগুলোর পুকুরগুলো উপচে পড়ায় প্রচুর মাছ ভেসে গেছে। ওই সকল এলাকায় খবর নিয়ে দেখা গেছে পরিবারগুলো বাক্সপোটরা নিয়ে নিরাপদে সরে যাচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র মতে, উজানের ঢলে গত রবিবার রাত ১২টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টায় কিছুটা কমলেও রাত ১২টায় ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে গত শুক্রবার দুপুরে। সেদিন রাতে ওই পথে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে। তবে গত রবিবার রাত ১২টা থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ১টায় ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পাশাপাশি সেখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বর্ষায় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে গত ২৬ জুন। সেদিন সকাল থেকে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বিডি২৪লাইভকে বলেন, উপজেলার সকল কর্মকর্তাগনকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকভাবে টিম গঠন করে প্রতিটি ইউনিয়নে মনিটরিং করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্ব-স্ব এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি করছে। পাশাপাশি সরকারি শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: