প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনজুরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

তোর মাকে মেরে ফেলেছি, এই কথা বলেই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করল বাবা

   
প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ময়মনসিংহ সদরের খাগডহরে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে খুনের ঘটনায় একমাত্র আসামী শফিকুল ইসলাম শাহীন খুনের ঘটনার স্বীকার করেন। এই দুই খুনের সাথে আর কেউ জড়িত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি শাহ কামাল বলেন, সদর থানা পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৮ ঘন্টার মাথায় ঘাতক স্বামী শফিকুল ইসলাম শাহীনকে ১৬ জানুয়ারী গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা ও স্বর্নালংকার উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্তকারী অফিসার তাকে আদালতে পাঠালে ঘাতক স্বামী শাহীন হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেকে জড়িয়ে জবানবন্দি প্রদান করে।

১৫ জানুয়ারী (বুধবার) রাতব্যাপী বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে শফিকুল ইসলামের মা, ভাই এবং অতি কাছে এক ব্যবসায়ী বন্ধু আলমগীরকে আটক করে। ওই দিন রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘাতকের আটককৃত বন্ধু আলমগীর পুলিশকে নিশ্চিত করে যেখানেই থাকুক তাকে মোবাইল করবেই। যেই কথা সেই কাজ। ১৬ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) রাত পেরিয়ে সকাল হতেই ঘাতক শফিকুল ইসলাম শাহীন আটক বন্ধু আলমগীরকে নতুন একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করেন। সাথে সাথেই ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে রওনা দেন। এক পর্যায়ে কোতোয়ালী ও ডিবি পুলিশ সম্মিলিতভাবেই ঘাতক শফিকুল ইসলাম শাহীনকে কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে।

পারিবারিক কলহে মা-মেয়েকে হত্যা করে বলে শাহীন ১৬৪ ধারায় স্বিকারোক্তি প্রদান করে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত নয় বলেও স্বীকারোক্তি দেয় শফিকুল ইসলাম শাহিন।

শাহিন বলেন, প্রেম করে রুমাকে বিয়ে করেন সে। বিয়ের পর রুমার মাধ্যমে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক কয়েক দফায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আনেন। ওই টাকায় নানা ব্যবসা করে বারবার লোকসান পড়ে সে। এছাড়া ওই টাকা দিয়ে শাহীন তার ভাইকে বিদেশে পাঠিয়েছে। সর্বশেষ পিতার বাড়ি থেকে রুমার এনে দেওয়া চার লাখ টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সব সময় ঝগড়া চলেই আসছিল।

গত ১৫ জানুয়ারী ঘটনার দিন স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হলে নিজ ঘরেই স্ত্রী রুমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ ঘরের বাথরুমে নিয়ে ফেলে রাখে। শাহীন আরও বলেন, কিশোরী মেয়ে নাফিয়া আক্তার কমবয়সী মেয়ে মা নেই, এখন কার সাথে থাকবে। এই চিন্তা থেকেই স্কুলে পড়তে যাওয়া মেয়েকে মায়ের অসুস্থ্যতার কথা বলে বাড়িতে ডেকে আনেন। নাফিয়া আক্তার বাড়িতে এসে স্কুল ড্রেস পরিবর্তন করে। পরে তার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলে ঘাতক পিতা শাহীন বলে তোর মাকে মেরে ফেলেছি। এই বলেই ওই কিশোরী মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং মায়ের লাশের সাথে একই বাথরুমে মেয়ের লাশ ফেলে রাখে।

এভাবে শাহিন স্ত্রী কন্যাকে হত্যার পর স্বামীর বাড়িতে থাকা অপর মেয়ে (বড়) সাদিয়া আক্তার লাবণ্যকে মোবাইলে জানায়, তার মা অসুস্থ্য। জরুরী সিএনজিযোগে আসতে হবে। পিতার মোবাইল পেয়ে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই বড় মেয়ে আসেন। এ সময় তার মা কোথায় জানতে চায় এবং খুজে এক পর্যায়ে বাথরুমে লাশ দেখে চিৎকার শুরু করে। মেয়ে চিৎকার শুরু করায় তাকেও শ্বাসরুধে হত্যা করতে চেষ্ঠা করে ঘাতক শাহীন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারী শহরের খাগডহর ঘুন্টি এলাকায় ফকির বাড়িতে পারিবারিক কলহে শফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী রুমা আক্তার (৩৮) ও মেয়ে নাফিয়া আক্তার(৯) খুন করে। পরে অপর মেয়ে সাদিয়া আক্তার লাবণ্যকে বাড়িতে এনে তাকেও হত্যার চেষ্টা চালায় শফিকুল ইসলাম শাহীন।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: