প্রচ্ছদ / অন্যান্য... / বিস্তারিত

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দয়া করে নাটকের অংশ হয়েন না…!

   
প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, ২১ জুলাই ২০১৯

ইফতেখায়রুল ইসলাম

দেশের উন্নতির জন্য সবার আগে জনগণের সচেতনতা দরকার। জনগণ সচেতন হলেই এগিয়ে যাবে দেশ। হ্রাস পাবে অন্যায়-অত্যাচার। আর তাই দেশের মানুষকে এক সাথে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইফতেখায়রুল ইসলাম। তিনি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।

সম্প্রতি তিনি একটি সচেতনতামূলক স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে। যা হুবহু বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ধানমন্ডির পথে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি গড়নে সুশ্রী এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে! খুব কম করে হলেও ২৫-৩০ জন লোক ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন!

গাড়ি থেকে নেমে যখন জিজ্ঞেস করতে গেলাম কেন মারছেন তিনি? দেখলাম আহত হওয়া ব্যক্তি একজন বিশেষ (বুদ্ধি প্রতিবন্ধী) মানুষ! মাথায় আগুন ধরে গেলেও নিজেকে স্থির রেখে সুশ্রী ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম কেন মারছেন?

ভদ্রলোকের কনফেকশনারির সামনে শুধু একটা কলার খোসা ফেলেছে, এতেই তার পুরুষত্বে দারুণ আঘাত লেগেছে। লোকাল থানা পুলিশকে ডাকতে যাচ্ছি ঠিক তৎক্ষনাৎ ভিকটিমের মা এসে বললেন, ‘বাবা পুলিশ ডেকেন না, উনারা আমাগো পরিচিত।’ ইউনিফর্ম ছাড়া এই আমার প্রতিবাদের কারণেই সম্প্রতি এমবিএ সম্পন্ন করা ভদ্রলোক করজোড়ে মাফ চেয়েছেন সকলের কাছে। এই লোকের হিসেবটা বাদই দিলাম! আমরা যারা ২৫-৩০ জন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছিলাম, সরাসরি প্রতিবাদ করার পুরুষত্বটুকু নাইবা ছিল, ৯৯৯ য়ে একটা ফোন করেও কি প্রতিবাদ করা যেতো না! আপনাদের, আমাদের এই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নাটক দেখার সংস্কৃতিই একসময় নিজেদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে!

খুব ছোটবেলায় দূরে কোথাও যেন না যাই, এজন্য মা বলতেন দূরে যেওনা ‘ছেলে ধরা’ ধরে নিয়ে যাবে! তাও বলছি প্রায় ২৫-২৬ বছর আগের কথা। এরপর একটা সময় পর এই ছেলে ধরার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেলো, আমাদের সাধারণেরই নানামুখী সচেতনতার কারণে। হঠাৎ করেই ছেলেধরা বিষয়টি নিয়ে আবার রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। আপনার সন্তানের সুরক্ষা আপনি অবশ্যই নিশ্চিত করবেন। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে আরেক সন্তানের বুক খালি করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? আপনি কোনো কিছু যাচাই না করেই একজন জীবন্ত মানুষকে মেরে ফেলছেন! যাচাই করেও তো মেরে ফেলবার অধিকার নাই আপনার।

কত শত প্রয়োজন, অপ্রয়োজনে অনেকেই ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ য়ে ফোন করছেন অথচ এরকম আদিম যুগের বর্বরতা দেখে একটা টু শব্দও কেউ করছেন না! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নাটক উপভোগ করছেন। কোথাও কি একজন বিবেচক মানুষ থাকেন না, ‘যিনি একটু বলবেন আসেন পুরো বিষয়টি জানি বা নিকটস্থ পুলিশকে খবর দেই। এভাবে কারো প্রাণ নিয়ে নেয়ার অধিকার আমাদের নেই।’

আপনি ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে কাউকে পিটিয়ে মারছেন- জেনে রাখুন আপনি একজন খুনী! আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন জেনে রাখুন আপনি একজন বা কয়েকজন খুনীর সহযোগী। আপনি সাধারণ মানুষের নামের পাশে খুনী তকমা লাগলে খুব ভালো তো লাগার কথা নয় আপনার!

এদেশে আমরা প্রায় অনেকেই সকলের কাজ বুঝি শুধু নিজের কাজটুকু ছাড়া!

আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ আশেপাশে ছেলেধরা বলে কাউকে সন্দেহ হলে দয়া করে নিকটস্থ পুলিশে খবর দিন, তা না পারলে ৯৯৯ য়ে ফোন করুন। তারপরও দয়া করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কোনো নাটকের অংশ হয়ে থেকেন না…..!

লেখক: ইফতেখায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা।

এইচএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: