দাদার উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নাতি-নাতনির অধিকার

   
প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ইসলাম মানবরচিত বিধান নয় এবং তা মানবীয় আবেগ দ্বারা প্রভাবিতও নয়। বরং এটি হলো আল্লাহপ্রদত্ত ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিন ও শরিয়ত। তাই সাম্য ও ইনসাফের আইন একমাত্র ইসলামই দিতে পারে। এ কথা যেমন সৃষ্টিজীবের অন্য সব হকের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি মিরাসের হকের ক্ষেত্রেও সত্য। মৃতের উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে জীবিত আত্মীয়দের কার অংশ কতটুকু, তা শরিয়তের অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত। শরিয়তের অনেক বিধান কোরআনে কারিমে বিস্তারিতভাবে নেই। কিন্তু মিরাসের বিধান ভিন্ন। তা এক এক করে কোরআন মাজিদে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফের বিশাল অধ্যায়ে প্রত্যেকের অংশ ও প্রাপ্য খুলে খুলে বর্ণিত হয়েছে। ফলে ১৪০০ বছর পর এসে কারো অংশের ব্যাপারে নতুন করে যুক্তি-তর্কের কোনো সুযোগ নেই।

আল্লাহ তাআলা ওয়ারিশদের প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, অতঃপর সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই বণ্টন অনুসরণ না করলে আল্লাহর দেওয়া সীমা লঙ্ঘনের ফলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ‘আল্লাহ তোমাদের অংশ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করলেন যেন তোমরা এ ব্যাপারে ভ্রষ্টতার শিকার না হও। আল্লাহ সব বিষয়ে অবগত।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৭৬)

মিরাসের বিধান বর্ণনা শেষে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অনুসরণ করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে স্থায়ী হবে এবং এটা মহাসাফল্য। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হবে এবং নির্ধারিত সীমাকে লঙ্ঘন করবে তাকে দোজখে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং সেখানে তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩-১৪)

ইসলামী আইন বনাম মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১:

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে মুসলমান পরিচয় দিয়ে আজ কোরআন-সুন্নাহবিরোধী চিন্তা লালন করে এবং আল্লাহর আইনের বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এখানে মিরাসসংক্রান্ত এমনই একটি বিধান নিয়ে আলোচনা করব, যে আইনটি মুসলিম নামধারী পাকিস্তানি শাসক আইয়ুব খান ‘মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১’তে চালু করেছিলেন। তা হলো, দাদার জীবদ্দশায় পিতা মারা গেলে চাচাদের উপস্থিতিতে নাতি-নাতনিরা দাদার মিরাস পাবে কি না? আইনটির বিবরণ হলো—

৪ নম্বর ধারা : ‘যার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টিত হবে, তার পূর্বে তার কোনো পুত্র বা কন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বণ্টনের সময় উক্ত পুত্র বা কন্যার কোনো সন্তানাদি থাকলে, তারা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির ওই অংশ পাবে, যা তাদের পিতা অথবা মাতা জীবিত থাকলে পেত।’

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের এ ধারাটি সম্পূর্ণ শরিয়তবিরোধী আইন। কোরআন-হাদিস ও ইজমায়ে সাহাবার সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে আইয়ুব খানের শাসনামলে তা প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে আইয়ুব খানের ওই পরিত্যক্ত আইন স্থান করে নিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান নাগরিকের ওপর মুসলিম আইনের নামে সম্পূর্ণ কোরআন-হাদিসবিরোধী আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১’-এর একটি ধারা শরিয়তবিরোধী? শরিয়তের বিধান হলো, দাদার জীবদ্দশায় পিতা মারা গেলে চাচাদের উপস্থিতিতে নাতি-নাতনিরা দাদার মিরাস পাবে না। সহিহ বুখারিতে এ বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ আনা হয়েছে। সেখানে মিরাসের ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞানী সাহাবি হজরত জায়েদ বিন সাবেত (রা.)-এর ফতোয়া উল্লিখিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘ছেলে থাকাবস্থায় (মৃত) ছেলের সন্তানাদি মিরাস পাবে না।’ (সহিহ বুখারি : ২/৯৯৭)

এটি সর্বযুগের ইসলামী আইনবিদদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তও। (উমদাতুল কারি : ২৩/২৩৮)

উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী দূরবর্তীর ওপর প্রাধান্য পাবে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোরআনে নির্দেশিত নির্ধারিত অংশের অধিকারীর অংশ তাদের দিয়ে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয় পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৩৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬১৫, আবু দাউদ, হাদিস : ২৮৯৮, তিরমিজি, হাদিস : ২০৯৮, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৭৪০)

আর এ কথা সবারই জানা যে কারো নাতির চেয়ে ছেলেই অপেক্ষাকৃত বেশি নিকটবর্তী।

এএস/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: