প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মনজুরুল ইসলাম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত সালমান, পঁচে যাচ্ছে মাথার বিভিন্ন অংশ!

   
প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

দুরারোগ্য চর্মরোগে আক্রান্ত ৬ বছরের শিশু সালমান। তার চিকিৎসায় ইতিমধ্যে শেষ সম্বল থাকার ঘরটিও বিক্রি করে দিয়েছে তার বাবা-মা। সামান্য আয়ের গার্মেন্টস কর্মী তার মা সালমানের চিকিৎসা ও সংসারের ভরনপোষন করে ক্লান্ত। সন্তানের চিকিৎসায় এখন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন সমাজের বিত্তবানদের কাছে। সমাজের বিত্তবানরা যদি সহায়তা করেন, তাহলে সালমান অন্য শিশুদের সাথে যেতে পারবে স্কুলে, খেলাধুলা করতে পারবে অন্য সাধারণ শিশুদের সাথে, এমন আশায় বুক বেঁধেছেন সালমানের মা-বাবা।

দুরারোগ্য চর্মরোগে আক্রান্ত শিশু সালমান ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার গন্ডখলা গ্রামের হত দরিদ্র সজল মিয়ার ছেলে। সে পেশায় একজন ভ্যানগাড়ি চালক। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঘর-বাড়ি বিক্রি করে সপরিবারে গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। সালমানের মা মাহমুদা সেখানকার একটি গার্মেন্টসে চাকরী করেন। বর্তমানে সালমানের অবস্থা খু্ব খারাপ হওয়ায় ত্রিশালের গলগন্ডা গ্রামেই আছেন।

এ বিষয়ে শিশু সালমানের বাবা সজল মিয়া বলেন, সালমানের বয়স যখন ৮/৯ মাস তখন থেকে শরীরে কালো কালো তিলের মত হয়। তখন থেকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এ অবস্থায় গত কোরবানীর ঈদের পর থেকে কালো কালো দাগ থেকে প্রথমে মাথায় ঘামাচির মত গুটি গুটি হয়। পরে আস্তে আস্তে সারা শরীরে এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। গত ৫ বছরে চিকিৎসা করাতে আমার ঘর-বাড়ি সব বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু কোন মতেই তার তার শরীরের কোন উন্নতি হচ্ছে না। বরং ক্রমেই তার শরীরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। কোন উন্নতিই হচ্ছে না। বর্তমানে মাথার চামড়ার ভিতর থেকে সবসময় পঁচা রক্ত বের হয়। এখন মাথার চামড়া পঁচে যাওয়ার মত অবস্থা।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা কি বলেছেন জানতে চাইলে সজল মিয়া বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেশ কিছুদিন যাবত চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কোন উন্নতি নেই। কি রোগ হয়েছে, ডাক্তাররা জানাতে পারছে না। এখন অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলছেন। কিন্তু সেখানে নিলে তো অনেক টাকা খরচ হবে। স্থানীয় একজন সাংবাদিক নেতা রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আমার ছেলেকে দেখতে এসেছিল। তিনি কিছু টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আজ তাকে নিয়ে ঢাকায় যাব।

সালমানের মা মাহমুদা বলেন, আমি গার্মেন্টসে চাকরী করে ছেলের চিকিৎসার টাকা ও সংসার আর চালাতে পারছি না। এখন আমার একমাত্র ভরসা সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ। তারা যদি আমার ছেলের চিকিৎসায় সহায়তা করে। তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারব।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি খায়রুল আলম রফিক বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে আমি সজল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখি সালমানের অবস্থা খুব খারাপ। এ অবস্থায় আমি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে কিছু সহায়তার ব্যবস্থা করেছি। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আমি নিজে তাদের সাথে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেব।

এ বিষয়ে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এবিএম আনিসুজ্জামান আনিছ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই শিশুর পরিবারের সাথে আমি কথা বলেছি। আমার পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। তাছাড়া আমার রাজনৈতিক মহলের বন্ধু বা বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগীতার কথা বলব, যেন শিশুটি অন্য সকল শিশুর সাথে স্কুলে যেতে পারে ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি খোঁজখবর নিয়ে শিশুটির সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছি। এছাড়াও সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও সাহায্যে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান তিনি।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) দেখার পর ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি শাহ কামাল আকন্দ শিশুর চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার দেয়ার কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টাকা পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করব। পরবর্তিতে প্রযোজনে শিশুর চিকিৎসায় সহযোগীতা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: