প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

দেশের টানে বলিউডের সুযোগ ছেড়ে দিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর

   
প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, ৭ জুলাই ২০২০

আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত থেকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি চলচ্চিত্রের প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। এজন্য তিনি ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। তাকে হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসছে এদেশের সংগীত প্রেমীরা। গায়ক এন্ড্রু কিশোর ছিলেন একজন নিরহংকারী মানুষ। জীবন যাপনেও উচ্চবিলাসিতা ছিলো না তার। দেশকে ভালোবাসতেন তিনি। বাংলার পথঘাট মাটি বায়ু আর কোলাহলকে তিনি জীবনের আনন্দ ঘ্রাণ হিসেবে মেখে নিয়েছিলেন।শিল্পীর বন্ধু-স্বজন ও কাছের মানুষেরা সেই কথাই বলছেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকেও উতলা ছিলেন কবে দেশে ফিরে আসবেন সে নিয়ে। মানুষ নাকি মৃত্যুর আগে বুঝতে পারে তার চলে যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসছে। হয়তো তিনিও বুঝতে পেরেছিলেন। তাই চিকিৎসককে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমাকে দেশে পাঠিয়ে দাও। দেশের মাটিতে গিয়ে আপনজনদের কাছে মরতে চাই আমি।’ ফিরেও এসেছিলেন। অল্প ক’টা দিন ঢাকায় কাটিয়ে একেবারে ফিরে গেলেন সেখানেই, যেখান থেকে তার আবির্ভাব, যেখানে তার শেকড় গেঁথে আছে।

অথচ এই এন্ড্রু কিশোর একটু লোভ করলেই নিতে পারতেন দারুণ এক সুযোগ, যা তাকে মুম্বাইয়ের সংগীত জগতে প্রতিষ্ঠিত করে দিত। বলিউডের একজন জনপ্রিয় গায়ক হিসেবেই হয়তো আজ উচ্চারিত হতো তার নাম। এদেশের মানুষ আফসোস মাখা অহংকার নিয়ে বলত, ‘ভারতের গায়ক এন্ড্রু কিশোর তো আমাদের বাংলাদেশেরই মানুষ। তিনি রাজশাহীতে জন্মেছিলেন।’ যেমনটা বলি আমরা সত্যজিৎ রায়, ঋত্নিক ঘটক, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা সেন, সাবিত্রী চ্যাটার্জিদের বেলায়।

হয়নি, তেমনটা হয়নি। বলিউডের মিউজিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার মানুষ আরডি বর্মণ নিজে এন্ড্রু কিশোরকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুম্বাইয়ে স্থায়ী হওয়ার। বলেছিলেন, নিয়মিত থাকলে ক্যারিয়ার গড়ে দেবেন এন্ড্রু কিশোরের। তার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিলেন শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণ। সংক্ষেপে যাকে আরডি বর্মণ বলে ডাকা হয়। অনেকে আবার পঞ্চমদা বলেও ডাকেন তাকে। এন্ড্রু কিশোর আরডি বর্মণের সেই প্রস্তাব বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের দেশের সংগীতেই ভালো থাকবেন বলে জবাব দিয়েছিলেন।

বেশ কয়েক বছর আগে একটি সাক্ষাৎকারে এন্ড্রু কিশোর নিজেই জানিয়েছিলেন সেই গল্প, যা জানার পর তার প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে হৃদয়। সেখানে এন্ড্রু বলেন, ‘ভাবতে ভালো লাগে আমিই একমাত্র বাংলাদেশি যে আরডি বর্মণের সুরে হিন্দি গান গেয়েছি। বাংলায়ও গেয়েছি। যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘শত্রু’ যেটি বাংলায় নাম ছিলো ‘বিরোধ’, সেখানে মোট তিনটি গান আমি গেয়েছিলাম। দুটি হিন্দিতে এবং বাংলা ছবির জন্য একটি বাংলায়। ‘ইসকি টুপি উসকি সার’ নামের গানটা হিন্দিতে গেয়েছিলেন কিশোর কুমার, যার বাংলা ভার্সনটা আমি গেয়েছিলাম। বিখ্যাত গীতিকার মাজরু সুলতানপুরির লেখা ‘সুরেজ চান্দা’, ‘মে তেরি বিসমিল হু’ এই হিন্দি গান দুটি গাওয়ার পাশাপাশি বাংলা ‘মুখে বলো তুমি হ্যাঁ, ‘এর টুপি ওর মাথায়’ এবং ‘আজো বয়ে চলে পদ্মা মেঘনা’ গানগুলো পঞ্চমদার সুরে গেয়েছিলাম। এটা সেই ১৯৮৫ সালের কথা। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাজেশ খান্না ও শাবানা।’

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: