মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিডি২৪লাইভের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে আমির খসরু

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সরকারের পতন চায় বিএনপি

   
প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানান বিষয় নিয়ে বিডি২৪লাইভের সাথে একান্তে কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ পরেসপন্ডেন্ট মো. ইলিয়াস।

বিডি২৪লাইভ: বর্তমান বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: স্বাধীন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে বিএনপি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ব্যক্তি কেন্দ্রিক চালিত উন্নয়ন অর্থনীতিই বিএনপির মূল উদ্দেশ্য। তাছাড়া বিএনপি আজও গণতন্ত্র রক্ষায় অনড় রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিডি২৪লাইভ: বিএনপির ভবিষ্যৎ কি?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিএনপির ভবিষ্যৎ না, বলেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী? বিএনপির ভবিষ্যৎ বলে কোন জিনিস নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি হবে তার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে কিনা, ভোটাধিকার ফিরে পাবে কি না, বাকস্বাধীনতা ফিরে পাবে কিনা, এটার সাথে নির্ভর করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হলে রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং জনগণ যে দেশের মালিক সেটা পূর্ণ স্থাপন করা সম্ভব। বিএনপি শুধু মাত্র তার দায়িত্ব পালন করছে। একটি গণতন্ত্র দল হিসেবে দেশের গণতন্ত্র, মানুষের আধিকার, বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি তার দ্বায়িত্ব পালন করছে।

বিডি২৪লাইভ: বহুদিন পর বিএনপি গত ২ ফেব্রুয়ারি হরতাল কর্মসূচি দিলেও মাঠে নেতাকর্মীদের দেখা যায় নি। কি হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে বলে আপনি মনে করেন?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: রাজনীতি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি দুপুর পর্যন্ত যথেষ্ট সাড়া দিয়েছে। আর এটাই যথেষ্ট। সরকারি দলের লোকজন রাস্তায় বাস নামিয়েছে, তাদের গাড়ি নামিয়েছে, সেটা তাদের কাজ তারা করেছে এটা জনগণের বুজতে অসুবিধা হয় নি। আর হরতাল ডাকার অর্থ এই নয় যে, রাস্তায় নেমে বোমাবাজি করবে, গাড়ি ভাঙচুর করবে এটা কিন্তু হরতালের অর্থ নয়। হরতাল ডাক দিয়েছে জনগণের সমর্থনের জন্য আর জনগণ সমর্থন দিয়েছে।

বিডি২৪লাইভ: আপনারা দাবি করছেন জনগণ বিএনপির পক্ষে রয়েছে, তাহলে ঢাকা সিটি নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি কম কেন?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: কারণটা পরিষ্কার। জনগণ এই সরকারের অধীনে, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর কোন আস্থা নেই। দেশের জনগণ মুক্ত পরিবেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। এই অবস্থায় পূর্ব নির্ধারিত কে নির্বচিত হবে সেটা এখন নতুন একটা রূপ নিয়েছে। কে জনপ্রিয় তা নয়, কে জিতবে কে হারবে সেটাও নয়; এখন হচ্ছে কাকে হতে দেওয়া হবে (বিজয়ী) আর কাকে হতে দেওয়া হবে না। কাকে দিবে কাকে দিবে না এটা সরকারের সিদ্ধান্ত সুতরাং জনগণ কেন ভোট দিতে যাবে?

বিডি২৪লাইভ: সাধারণ মানুষকে বলতে শোনা যায় বিএনপির ওপর ভরসা করতে পারছে না বলেই তারা রাস্তায় নামছে না। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিএনপির ওপর আস্থা তো কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, আইনের শাসন কেড়ে নিয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে এটাতো বিএনপির কোন বিষয় নয়। এটা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিষয়। এই সরকারের ওপর এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নেই তারা যে নির্বাচন বয়কট করেছে এটাও তো ইন্ডাইরেক্টলি বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন। যেই কথাগুলো বিএনপি বলছে তার ওপর জনগণের সমর্থন রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ: খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কে, দল নাকি পরিবার?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: দলের কাজ হচ্ছে আইনগত ভাবে ওনার যেই অধিকার সেটার জন্য লড়াই করা। সেই লড়াই দল চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে দেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানেই বিষয়টি আটকে আছে। উনাকে মিথ্যা মামলায় জামিন না দিয়ে আটকে রেখেছে। এটাতো রাজনৈতিক, ইচ্ছে প্রণোদিত আটকে রাখা। জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে খালেদা জিয়া। সেখানে পরিবারের এগিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। সেটা ওনার স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ওনার জীবনের ক্ষেত্রে পরিবার যা করার করবে।

বিডি২৪লাইভ: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কি?
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: দ্বাদশ নির্বাচন বড় কথা নয়, তার আগেই আমরা ভাবছি সরকারের পতন হওয়া উচিত। জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তারা যেই নির্বাচন ব্যবস্থা করেছে তা বাতিল করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। আর সেটা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: