প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

ধনকুবের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা জিতলেন গৃহকর্মী পার্তি লিয়ানি

   
প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

পার্তি লিয়ানি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার একজন গৃহপরিচারিকা, কিন্তু কাজ করতেন সিঙ্গাপুরের অত্যন্ত ধনী একটি পরিবারে, বেতন ছিল মাসে ৬০০ সিঙ্গাপুরি ডলার। তার নিয়োগদাতা দেশটির বিশাল এক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মালিক লিউ মুন লিয়ং, যিনি বেশ কয়েকটি বড় বড় কোম্পানির চেয়ারম্যান।

একদিন ওই পরিবারটি পার্তি লিয়ানির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনলো। তারা রিপোর্ট করলো পুলিশের কাছে। অভিযোগে বলা হলো যে তিনি ওই বাড়ি থেকে বিলাসবহুল কিছু হাতব্যাগ, পোশাক, একটি ডিভিডি প্লেয়ার চুরি করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সূত্রপাত হলো সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে বহুল আলোচিত এক মামলার।

বিত্তশালী ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে দীর্ঘ চার বছর আইনি লড়াই-এর পর অবশেষে এই সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস পেলেন গৃহকর্মী পার্তি লিয়ানি।

আদালতের রায়ের পর দোভাষীর মাধ্যমে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “চার বছর ধরে আদালতে লড়াই করছিলাম। আমি খুব খুশি যে শেষ পর্যন্ত আমি মুক্তি পেয়েছি।”

তবে তার এই মামলাটি সিঙ্গাপুরে অসাম্য ও বিচার পাওয়ার ব্যাপারে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রাথমিকভাবে মিস পার্তিকে কীভাবে চোর বলে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল!

পার্তি লিয়ানি বিত্তশালী ব্যবসায়ী লিউ মুন লিয়ং এর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন ২০০৭ সালে। সেসময় ওই বাড়িতে মালিকের ছেলে কার্লসহ পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্য বসবাস করতো।

প্রায় ন’বছর পর ২০১৬ সালে কার্ল লিউ ও তার পরিবার ওই বাড়ি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যায়।

আদালতে যেসব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে তাতে দেখা যায় যে মিস পার্তিকে মি. কার্লের নতুন বাড়ি পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল, এছাড়া তার অফিসও বিভিন্ন সময়ে পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল যা স্থানীয় শ্রম আইনের লঙ্ঘন। এবিষয়ে তিনি আগেও অভিযোগ করেছিলেন।

সিঙ্গাপুরে অভিবাসী গৃহকর্মী নিয়োগ দিতে কাজ করে বহু সংস্থা।

এর কয়েক মাস পরে ব্যবসায়ী লিউ পরিবারের পক্ষ থেকে মিস পার্তিকে জানানো হয় যে চুরি করার অভিযোগে তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

স্ট্রেইটস টাইমস সংবাদপত্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মি. কার্ল লিউ যখন তাকে বরখাস্ত করার কথা জানান তখন মিস পার্তি তাকে বলেছিলেন: “আমি জানি কেন। আপনার টয়লেট পরিষ্কার করতে অস্বীকার করায় আপনি রেগে গিয়ে আমার চাকরি খাচ্ছেন।”

এর পরই তাকে বাকসো-প্যাটরা গুছিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তাকে দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। মিস পার্তিকে বলা হয় যে ওই পরিবারটি তার মাল-সামানা ইন্দোনেশিয়ায় পাঠিয়ে দেবে। সেদিনই তিনি সিঙ্গাপুর ছেড়ে নিজের দেশে ফিরে যান।

ব্যাগ গুছাতে গুছাতে তিনি তাকে মি. কার্লের বাড়ি পরিষ্কার করতে বলার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করার হুমকি দেন।

মিস পার্তি চলে যাওয়ার পর পরই লিউ পরিবার বাকসোগুলো পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা অভিযোগ করেন সেসময় তারা সেখানে তাদের কিছু জিনিসও পেয়েছেন।

মি. লিউ মুন লিয়ং এবং তার ছেলে কার্ল লিউ ৩০শে অক্টোবর এবিষয়ে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেন।

মিস পার্তি এর পাঁচ সপ্তাহ পর নতুন কাজের খোঁজে আবার সিঙ্গাপুরে ফিরে এলে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। তখন তিনি বলেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার কোন ধারণা নেই।

ফৌজদারি মামলার কারণে তিনি আর সিঙ্গাপুরে কাজ করতে পারছিলেন না। তার থাকার জায়গা হয় অভিবাসী শ্রমিকদের একটি আশ্রয়স্থলে। দিনের পর দিন মামলা চলতে থাকায় তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে এরকম একটি সংস্থার আর্থিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সুত্র: বিবিসি বাংলা।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: