প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ‘মিথ্যা’ মামলায় পুরুষ শূন্য গ্রাম!

   
প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, ২৩ অক্টোবর ২০২০

মানচিত্র

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ‘মিথ্যা’ মামলার ভয়ে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার ছাতীয়ান গ্রামে প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তৃপ্তি খাতুন নামে এক নারীর করা একের পর এক মিথ্যা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলার ভয়ে গ্রাম ছাড়ছে পুরুষরা। তবে মোটা অংকের অর্থ দিলেই মামলার নিষ্পত্তি করে ফেলছে এই নারী। টাকার জন্য নিজের স্বামীর নামেও ধর্ষণের মামলা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, তৃপ্তি নিজের দুই দেবরকে নিয়ে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত। আমরা গ্রামের সকলে এই ব্যবসা বিরুদ্ধে। এই বিরোধিতা আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সকল কার্যক্রমের প্রতিবাদ করলে তাকেই সে নারী নির্যাতনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। এর পর তার চাহিদা মতো টাকা দিলে সে মামলা তুলে নেয়।

গ্রামের প্রবীণ মাতব্বর জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতি মাসেই একজন না একজন পুরুষ তৃপ্তির টার্গেটে পড়ে। এরপর তাকে ধর্ষণ বা নির্যাতনের মামলায় ফাঁসিয়ে তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। আর টাকা না দিলে কুমাড়ি ডাঙ্গা ক্যাম্পের এস আই আব্দুল আলিমের মাধ্যমে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালিয়ে কোর্টে চালান দেয়।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে ৫ জন পুরুষের কাছ থেকে নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে লক্ষ টাকা আদায় করেছে। এর মধ্যে বাউট গ্রামের সবুর, শুকুর কান্দির জাহিদ ও জেকের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও নিজের স্বামীসহ ডজন খানিক পুরুষের নামে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলা দিয়েছে।

আ. রাজ্জাক বলেন, ‘তৃপ্তির মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় আড়াই মাস জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু তাকে ধর্ষণ করলাম গ্রামের কেউ জানলো না। তার বাড়ির সামনে থেকে কুমাড়ি ডাঙ্গা ক্যাম্পের এস আই অব্দুল আলিম ও আর এক পুলিশ সদস্য আমাকে ধরে জানালো আমি ধর্ষণ করেছি। আমাকে তুলে নিয়ে ক্যাম্পে চলে গেলো। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় আমাকে কোর্টে চালান দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হলে।’

কোহিনুর বেগম নামে এলাকার এক নারী বলেন, সে খুব খারাপ নারী। তাকে নিয়ে বলতেও ভয় লাগে কি বিপদ না হয়ে পরে। সে তার স্বামী জাকিরের নামেও ধর্ষণ মামলা করেছে। বিয়ে করা বৌকে কেউ ধর্ষণ করে কখনও শুনেনি।

তৃপ্তি খাতুন বলেন, অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমি এ পর্যন্ত মাত্র তিনটা নির্যাতনের মামলা করেছি। তবে আ. রাজ্জাক ও জাহেরুলের বিরুদ্ধে মামলা করা সঠিক হয়নি। এটা আমি রাগের মাথায় করেছি। তিনি আরও বলেন, এ সব নিয়ে লিখবেন না।

কুমাড়ি ডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের এস আই আব্দুল আলিম বলেন, আমি চট্টগ্রামে ট্রেনিংয়ে এসেছি। ট্রেনিং থেকে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবো।

 

 

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: