প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

নকলায় এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামত

   
প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, ২৯ মে ২০২০

শেরপুরের নকলায় চলাচলে অনুপযোগী প্রায় এক কিলোমিটার পরিমাণ কাচা বিধ্বস্ত রাস্তা স্বেচ্ছাসেবীদের নিজস্ব অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে গত মঙ্গলবার থেকে মেরামত করা কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ডের কাজাইকাটা বেপারীবাড়ি পাকা রাস্তা হতে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা মৃগী নদী পর্যন্ত রাস্তাটি স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হচ্ছে।

নকলা উপজেলার দেবুয়ারচর সরাকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফ আহম্মদ ও বিবিএ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী তরুণ স্বেচ্ছাসেবক হাসান মোত্তাছিম বিল্লাহ শাওনের উদ্যোগে স্থানীয় অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে এ রাস্তা সংস্কার করা হয়।

সুত্রে জানা গেছে, কাজাইকাটা বেপারীবাড়িসহ আশেপাশের অনেক কৃষকের অধিকাংশ আবাদী জমি মৃগীনদীর ওপারে। নদীর ওপারে শুধু বেপারীবাড়ির কৃষকদের প্রায় ৩০০ একর আবাদী জমি রয়েছে। এসকল জমির আবাদ এই রাস্তাদিয়ে বাড়িতে নিতে হয়। তাছাড়া এ রাস্তাদিয়ে এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ইমাম, মোয়াজ্জেম, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন মানুষ পায়ে হেটে বা বিভিন্ন পরিবহণে যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারনে চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় কিছু তরুণ মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে এ রাস্তাটি মেরামত করার উদ্যোগ নেন। এতে আপাতত ৩৩ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেন, আল ফাহিম, আব্দুল হামিদ, শাকিল আহম্মেদ, শাকিব আল হাসান, আহসান হাবীব হৃদয়, নিরব আহম্মেদ, জাহিদ ইকবাল ওনমুমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য।

স্বেচ্ছাসেবক হাসান মোত্তাছিম বিল্লাহ শাওন বলেন, এ রাস্তাটির উপর নির্মম কষাঘাত বরাবরই হয়ে আসতেছে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন। কাদা মাড়িয়ে বালুর ট্রলী, রিক্সা, ভ্যান, বাই সাইকেল, মোটর সাইকেল, গরু ও মহিষের গাড়ি চলে। ফসল সংরণে ও নিরাপদে আনা নেওয়া করতে না পারায় কৃষকগন হতাশাগ্রস্ত। দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকারের প্রতীায় চেয়ে থেকে আজ তারা নিরাশ। আমরা কবে মুক্তি পাবো? কবে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে পাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারব? এমন প্রশ্ন এলাকাবসীর। তাদের আহাজারি আজও নিদারুনভাবে অবহেলিত। তিনি আরও বলেন, মৃগী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলণের কারনে নদীর তীর ভাঙ্গনের ফলে তীর খারা হয়ে যাওয়ায় এখন আর কৃষকের স্বপ্নে আবাদ সহজে ঘরে তুলতে পারছেন না। তাছাড়া হুমকির মধ্যে আছে বেশ কিছু আবাদী জমি ও বাড়ী। এরই মধ্যে অনেক আবদী জমি নদীর গর্ভে চলে গেছে বলে অনেকে জানান। এমতাবস্থায় মৃগী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ যতদ্রুত সম্ভব রাস্তিাটি পাকা করণের জোরদাবী জানান এলাকাবাসী।

শরীফ আহম্মদ বলেন, উপজেলার কাজাইকাটা গ্রামের বেপারীবাড়িটি নানা কারনে ঐতিহ্যবাহী বাড়ী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তিনি জানান, ২০০২ সালে বর্তমানের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ রাস্তাটি দিয়েই বেপারীবাড়ির আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। এ বাড়িটি নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানের নানার বাড়ি ও কিশোরগঞ্জের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের শ্বশুরবাড়ি। তাঁরাও এরাস্তাটি দিয়েই তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে যাতায়াত করেন। তাছাড়া এ বাড়ির অনেকে আছেন যারা নাকি বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন এবং অনেক মেধাবীরা এদেশের বিভিন্ন দপ্তরে উচ্চপদে কর্মরত আছেন।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: