প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

নন-এমপিও শিক্ষকদের জন্য সুখবর, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর চেয়েছে সরকার

   
প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, ২৪ মে ২০২০

ছবি: প্রতীকী

করোনাকালে সুখবর পেতে চলছেন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ইতিমধ্যে জরুরিভিত্তিতে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরসহ তাদের তথ্য চেয়েছে সরকার। আগামী ২৮ মে এর মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ই-মেইলে এসব তথ্য প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারিদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনপ্রাপ্ত বা যেসব প্রতিষ্ঠানের ইআইআইন নম্বর আছে শুধুমাত্র তাদের তথ্যই চাওয়া হয়েছে। করোনাকালে এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো টিউশন ফি আদায় করতে পারছেন না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন-ভাতাও পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘সরকার শিক্ষক-কর্মচারিদের যে তথ্য চেয়েছেন, সেটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। আশা করছি, এর মাধ্যমে সরকার নন এমপিও শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াবেন। আর সামনেই আগামী অর্থ বছরের বাজেট। এই তালিকা থেকে সরকার নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র জানতে পারবেন। আগামী বাজেটে সব নন এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাজেটও রাখা হবে বলে আমরা আশা করছি। একইসঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করনের কাজ শুরুর প্রতিফলনও আমরা আগামী বাজেটে দেখতে চাই।’

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও শিক্ষক-কর্মচারিদের তথ্যাদি ব্যানবেইসের জাতীয় শিক্ষা জরিপ- ২০১৯ হালনাগাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও ডিগ্রি কলেজের তালিকা এবং শিক্ষক-কর্মচারিদের নাম নির্ধারিত ছকে পাঠাতে হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সংযুক্ত ছক মোতাবেক তথ্যাদি আগামী ২৮ মে এর মধ্যে addsec_secondary2@moedu.gov.bd এবং mominur_rashid@yahoo.com এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আর শিক্ষক-কর্মচারীদের নামের ইংরেজি বানান এনআইডি কার্ডের অনুরূপ হতে হবে এবং প্রদও মোবাইল নম্বরও এনআইডির সঙ্গে মিল থাকতে হবে। ছকে ১৩টি তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- ডিভিশন কোড, জেলা কোড, উপজেলা কোড, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম, শিক্ষক-কর্মচারির নাম, পদবী, জেন্ডার, জন্ম তারিখ, এনআইডি নম্বর, স্মার্ট আইডি, মোবাইল নম্বর এবং মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর (বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা সিওর ক্যাশ)।

জানা যায়, ঈদের ছুটির মধ্যেও এসব তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছেন জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা। চলতি অর্থবছরে দুই হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর দেশে এখন নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। আর এতে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার। বাংলাদেশ নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘করোনাকালে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তবে নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারিদের জন্য সরকারের উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের একমাত্র দাবি, আগামী বাজেটে সব ননএমপিও প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি। এখন যে তালিকা করা হচ্ছে সেটাকে ধরেই আমরা এমপিওভুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: