প্রচ্ছদ / ভ্রমন / বিস্তারিত

নবাবগঞ্জে চোখ ধাঁধানো জমিদার বাড়ি

   
প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, ৩০ অক্টোবর ২০২০

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা) থেকে: ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনাসমৃদ্ধ একটি এলাকা। রাজধানীর খুব কাছের এই উপজেলার মূল আকর্ষণ হলো প্রাচীন কিছু জমিদার বাড়ি। ইছামতি নদী পাড়ে অবস্থিত নবাবগঞ্জে রয়েছে একাধিক দর্শনীয় স্থান। স্থাপনা ও দশর্নীয় স্থানগুলো কোনো না কোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষী বহন করে। এখানে রয়েছে ইছামতি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার অপূর্ব সুযোগ। এ নদীকে ঘিরে অতীতের মতো প্রানচা ল এখনো না থকলেও সূর্যাস্তের সময় ইছামতির রূপ মুগ্ধ করে সবাইকে। নবাবগঞ্জের দশর্নীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখলে বাংলার কয়েকশত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।

নবাবগঞ্জের দশর্নীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম ২০০ বছরের পুরানো জজ বাড়ি। প্রায় ২০০ বছর আগে জমিদার ব্রজেন সাহা বসবাসের জন্য তৈরি করেন ”ব্রজ নিকেতন”। পরবর্তীতে আশির দশকে এক বিচারক পরিবার ব্রজ নিকেতন কিনে বসবাস শুরু করলে এটি ‘জজ বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেই জজ বাড়ি এখন কলাকোপার প্রাণ। জজ বাড়ির চোখ ধাঁধানো নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হতে হয় দর্শনার্থীদের। যেকোন পথিক হঠাৎ বাড়িটি কারুকাজ দেখলে থমকে দাড়াবে। বাড়ির সামনে রয়েছে বিভিন্ন ফুল ও ফল গাছের পরিপূর্ণ বাগান। বিশালাকৃতির ঐতিহ্যবাহী এ জমিদার বাড়ির পাশেই রয়েছে শান বাগান ও পুকুর। যেখানে টলটলে পানিতে পা ভিজালেও ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। বাগানের হাজারো রকমের ফুল অনায়াসে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জমিদার বাড়িটি কারুকাজ চোখ ধাঁধানো। প্রচুর গাছগাছালির সমারোহ, পাখির কিচিমিচির শব্দ শুনতে শুনতে সময় পার হয়ে যায়। এটি বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রের শূটিং স্পষ্ট হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিছুদিন জনসাধারনের জন্য সম্পূর্ণ উম্মুক্ত করে দিলেও এখন কিছুটা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।

জজ বাড়ির পাশে রয়েছে কোকিলপ্যারী জমিদার বাড়ি। বাড়িটির সামনের দিকে বিশাল বিশাল কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে। আছে দৃষ্টি নন্দন ঝুলানো বাগান। এই জমিদার বাড়ির একটু দূরেই তেলেবাড়ি। যা মঠ বাড়ি নামে পরিচিত। ইছামতি নদী ঘেঁষে এই তেলেবাড়ি এখন ২৯ আনসার ব্যাটালিয়ানের বসবাস এবং আনসার ও ভিডিপি’র ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত। যেকোন উৎসবে এখানেও দর্শনার্থীদের ভীড় জমে যায়। এটি একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। ছায়া সুনিবিড় সুন্দর একটি পরিবেশ। পিকনিক স্পট হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। আনসারদের বসবাসের জন্য বিশাল একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম ক্যাম্পটি। কথিত আছে তেলে বাড়ির মালিক লোকনাথ তেল বিক্রি করে ধনী হয়েছিলেন বলে বাড়িটির নাম তেলেবাড়ি হয়ে যায়। তেলেবাড়ির পাড় ঘেঁষে যে কয়েকটি দালান আছে তার সবচেয়ে প্রথম যে দালালটি তার নাম পাইন্না বাড়ি। তেলেবাড়ির সামনেই এর অবস্থান। এই বাড়ির অন্যতম মালিক মধুবাবু পান বিক্রি করে ধনী হওয়ায় এর নাম হয় পাইন্না বাড়ি বলে স্থানীয়রা জানান। সেই বাড়ি থেকেই নদীর ওপাড়ের জনবসতি দেখতে দেখতে আপনার সময় পাড় হয়ে যাবে।

নবাবগঞ্জ আরেকটি প্রাচীন নির্দেশন হলো আন্ধারকোঠা। এটি খেলারামের বিখ্যাত বিগ্রহ মন্দির বলে পরিচিত। বিশাল একটা পুকুর পাড়ে দুইতলা বিশিষ্ট আন্ধারকোঠায় রয়েছে নয়টি গম্বুজ। গম্বুজগুলো দেখতে ছনের ঘরের মত। মাঝখানেরটি সবচেয়ে বড়। যা দেখতে পুজোবেদীর মতন। আন্ধারকোঠার মাটির নিচতলা রয়েছে অনেকগুলো কুঠুরী। এক সময় সিঁড়ি দিয়ে নিচের তলায় যাওয়া যেত। তবে সিঁড়িগুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন আর যাওয়া যায় না। আর উপরের তলা যাওয়ার সিড়িগুলো ভেঙ্গে গেছে। তবে আপনি চেষ্টা করলে ভাঙ্গা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে পারবেন। এই বাড়িটি নিয়ে একটা লোককাহিনী প্রচলিত রয়েছে।

পাঁচতলা ভবনটির এক রাতে তিনতলা মাটির নিচে ডেবে যায়। ভবনের উপরের তলায় একটি বড় চৌবাচ্চা আছে। জনশ্রুতি রয়েছে খেলারাম দা বজরাম ধনীদের ধনদৌলত ডাকাতি করে গরিবদের মাঝে দান করতেন। এ বাড়ি থেকে একটি সুড়ঙ্গ পথ ছিলো ইছামতি নদীর পাড়ে। নদীপথে ধন সম্পদ এনে এ সুড়ঙ্গ পথে বাড়িতে নিয়ে আসত খেলারাম। এছাড়া এই বাড়িটির পাশে আরেকটি বিরাট পুকুর রয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত, মাকে বাচাতে খেলারাম দা সেই পুকুরে নেমে ছিলেন আর উঠে আসে নাই। এই পুকুরের পাশে দাড়িয়ে কেউ কিছু চাইলে তার ইচ্ছা পূরণ হতো বলে মানুষ বিশ্বাস করতো। তবে এই সব কাহিনী কতোটুকু সত্য তা জানা যায়নি।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: