প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

নাতির প্রেমিকাকে ৮৫ বছরের দাদার সঙ্গে বিয়ে, তদন্ত শুরু

   
প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের সাথে স্থানীয় মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। জামালপুরের ডিসি, এসপি ও দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসির প্রতি আদালত এ আদেশ দেন।

দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক।

আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দীনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

গত ২০ নভেম্বর বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চরআমখাওয়া ইউনিয়নের বয়রাপাড়া গ্রামে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের সঙ্গে একই গ্রামের এক মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে দেন গ্রাম্য মাতব্বররা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশে ওই বৃদ্ধের নাতি শাহিনের (১৮) অপরাধের দায়ভার দাদার ওপর চাপিয়ে গ্রাম্য সালিশে বৃদ্ধ মহির উদ্দিনকে ১০ দোররা ও নাতিকে ১০ দোররা মেরে বৃদ্ধের সাথে সেই ছাত্রীর বিয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি কওমী মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। যদিও এই ছাত্রীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। একই গ্রামের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের নাতি শাহিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্ক রূপ নেয় শারীরিক সম্পর্কে। শাহীনের ধর্ষণে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাত ঘটানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশ করে নাতি শাহিনের অপরাধের দায় ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের ওপর চাপিয়ে দেন অসহায় বৃদ্ধ বাদ্ধ হয়ে বিয়ে করে।

মহিরের প্রতিবেশীরা জানান, অনেক আগেই ৭ সন্তানের জনক বৃদ্ধ মহির উদ্দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মারা যায়। তিনি তৃতীয় বিয়েও করেছেন ২৭ বছর আগে। ওই শিশুটি তার চতুর্থ স্ত্রী। বৃদ্ধ মহির বয়সের ভারে ঠিকমত কথাও বলতে পারেন না, দৃষ্টিও ঝাপসা। অল্প বয়সী চতুর্থ স্ত্রীকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হক বলেছেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদকে প্রধান, থানার ওসি মোহাব্বত কবির খান ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরে ফাতেমাকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: