প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

খায়রুল আলম রফিক

বিশেষ প্রতিনিধি

নান্দাইলে সুস্থ তিন ভাইয়ের নামে প্রতিবন্ধী কার্ড

   
প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, ২০ জুলাই ২০২০

প্রতীকী

নান্দাইল উপজেলায় প্রকৃত প্রতিবন্ধী ভাতা বঞ্চিত হলেও সুস্থ সবল তিন সহোদর ভাইয়ের নামে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।এই প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় নাম অন্তভুক্তির জন্য বোন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যে রোকেয়া খাতুন তদবীর করে এবং সে নিজে ওই টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে ।এই অনিয়মের সাখে জড়িত সমাজসেবা অফিসের দুর্নীতি পরায়ন কর্তা ব্যক্তিরা বলে একটি মহল দাবী করছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তিব্র সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকেয়া নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউপির ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। তিনি কোনাডাংগর গ্রামে বেশ কয়েকজন প্রকৃত প্রতিবন্ধী থাকার পরও সুস্থ সবল তিন ভাইকে ভিন্ন তিন গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছেন। তিন ভাই হচ্ছেন আব্দুস ছাত্তার (কার্ড নং-৩৭৬৫), স্বপন মিয়া (কার্ড নং-৩৭৪৯) ও রতন মিয়া (কার্ড নং-৩৭৩৭)। শুধু তাই নয় একজনের কার্ডে অন্যজনের স্ত্রীকে নমিনী করে মোবাইল নাম্বারের ঘরে দেওয়া হয়েছে ওই ইউপি সদস্যের নম্বার। ১৫ জুলাই স্থানীয় সোনালী ব্যাংক তারঘাট বাজার শাখা থেকে জুলাই/১৯ থেকে জুন/২০ মেয়াদের প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকা করে ২৭ হাজার টাকা উত্তোলন করার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। রবিবার ওই তিন ভাইয়ের বাড়িতে গেলে ছাত্তার ও স্বপন মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাদের খোঁজ করলে বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন তারা কিশোরগঞ্জ কাজে গেছেন। এসময় কথা হয় অপর ভাই রতন মিয়ার সাথে। সুস্থ হয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা উঠানোর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবন্ধি না হলেও ভিতরে অসুক আছে’। সাত্তারের স্ত্রী জাহানারা ও স্বপনের স্ত্রী হেপী আক্তার গত দুই দিন আগে ভাতার টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন তাদের স্বামী কিভাবে এই কার্ড করেছেন তা জানেন না। এসময় স্বপন মিয়ার স্ত্রী তাদের কার্ড বের করে এ প্রতিবেদককে দেখান।

কোনাডাংগর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিনুল হক বলেন, গ্রামে রতন মিয়া ও হৃদয় মিয়া সহ বেশ কয়েকজন প্রকৃত প্রতিবন্ধী থাকার পরও সুস্থ তিন ভাইয়ের নামে কার্ড করে দেয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুণ অর রশিদ বলেন, ওই ইউপি সদস্য কি করে তাঁর ভাইদের নামে কার্ড করে দিয়েছেন তা তিনি আগে জানতেন না। টাকা উত্তোলনের পরই জানতে পেরেছেন। ইউপি সদস্যের স্বামীর বাড়ি উদং গ্রামে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মোঠুফোনে তিনি বলেন, ভাইদের তিনি কার্ড করে দেননি। এই বিষয়ে সিংরইল ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ওই তিন ভাই প্রতিবন্ধী নয় উল্লেখ করে বলেন, নতুন নিয়মে প্রতিবন্ধীদের তালিকায় আমাদের কোন স্বাক্ষর লাগে না। তাই কিভাবে তারা তালিকায় অন্তভূক্ত হয়েছে তা বলতে পারবেননা। নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইনসান আলী দায়সারা বক্তব্য বলেন, তাঁরা সম্ভবত আমার স্বাক্ষর জাল করেছে। ভাতার বই পেল কোথায় জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন বাজারে এসব বই কিনতে পাওয়া যায়।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: