এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

নালিতাবাড়ীতে সফল মালটা চাষী শওকত আলম

   
প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে এখন চাষ হচ্ছে সবুজ মালটা। এক সময় গারো পাহাড় বনলতা আর গুল্মে ভরপুর ছিল। এখন আর গারো পাহাড়ে লতাগুল্ম নেই। এরমধ্যে বন বিভাগের জমিতে সামাজিক বনায়ন আর ব্যক্তিগত জমিতে গড়ে উঠেছে ছোট বড় মালটার বাগান। উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বাতকুচি-বুরুঙ্গা গ্রামে ‘বাংলো বাড়িতে’ মালটা বাগান গড়ে তুলেছেন মালটা চাষী শওকত আলম। শওকত আলমের প্রকৃত বাড়ি গাজীপুর এলাকায় তিনি এখানে এসে ৭ একর বন ভুমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন মালটা, ঔষধী ও মিশ্র ফলের বাগান। এতে তিনি যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তেমনি তাকে দেখে অনেকেই ঝুকছেন মালটা চাষের দিকে।

মালটা চাষী শওকত আলম জানান, ২০১২ সালে তিনি গারো পাহাড়ে বেড়াতে আসেন। এসে দেখেন এখানে মালটা চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তিনি এই এলাকায় ৭ একর জমি ক্রয় করে ময়মনসিংহ কৃষিবিশ্ব বিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টার থেকে চারা সংগ্রহ করে ৩ একর জমিতে ২ হাজার চারা রোপন করেন। সঠিক পরিচর্যায় গত ২ বছর যাবত মালটা ফল পেতে শুরু করেছেন। এতে তিনি পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে মালটা বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারে এর বেশ চাহিদাও রয়েছে। প্রতি কেজি মালটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারেন। এ জাতের মালটা দেখতে সবুজাভ।

তিনি জানান, কেমিক্যাল ব্যবহার করলে এর রং আরো গাঢ়ো হলুদ রঙের হয়। তবে বিষমুক্ত মালটা খেতে তিনি কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। তার বাকি ৪ একর জমিতে আম্রপালী, লেবু, কলাসহ ঔষধী গাছ লাগিয়েছেন। তার মালটা বাগানের মতো এই উপজেলার হাজী মোশারফ হোসেন ও আসাদুজ্জামান আসাদসহ অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে মালটা চাষ শুরু করেছেন।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আলমগীর কবীর বলেন, নালিতাবাড়ী গারো পাহাড়ের বেলে দোআঁশ মাটি মালটা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে সবুজাভ বারি মালটা-১ জাতের মালটা চাষ হচ্ছে। এগুলো দেখতে সবুজ হলেও খেতে সুমিষ্টি এবং পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। এ জাতের মালটা গাছে ১৫০ থেকে ১৭০টি পর্যন্ত মালটা ধরে। চাষীরা লাভবান হওয়ায় নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে দিন দিন মালটাচাষী বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা মালটা চাষীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছি।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: