প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

নিজ সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা, মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

   
প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরে পাষণ্ড বাবা নিজ ঔরসজাত সন্তানকে অনত্র বিক্রি করে দেয়ার প্রতিবাদে ইউরিয়া সার খেয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে মা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করা মা সুমা আক্তারকে ও কানাশাখোলা এলাকায় শফিকের কাছে বিক্রিকৃত শিশুকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এছাড়া শিশুর বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার সাপমারী এলাকায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সুলতান দুই স্ত্রী থাকার পর বিগত দুই বছর পূর্বে গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকার আঃ আজিজ এর মেয়ে সুমা আক্তারকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তাদের দাম্পত্য জীবনে সুমা আক্তার গভবর্তী হয়। পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তার সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। এদিকে সিজারের জন্য স্বামী সুলতান ২২ হাজার টাকা খরচ করেন। পরে সিজারের ২২ হাজার টাকা পাষন্ড স্বামী সুলতান স্ত্রী সুমা আক্তারের কাছে দাবী করেন এবং টাকা না দিলে তার শিশু সন্তানকে বিক্রি করে টাকা আদায় করবে। পরে কানাশাখোলা এলাকার কাপতুল মন্ডলের ছেলে শফিকের কাছে ওই শিশু সন্তানকে ৯১ হাজার টাকা বিক্রি করে দেন । যদিও শফিকের দাবী সে শিশুটিকে কিনে নয় বরং তার সন্তান না থাকায় লালন পালন করতে দত্তক নিয়েছিল।

বুধবার শিশুটির মা সুমা আক্তার তার শিশুর খোঁজে শফিকের বাসায় যায়। এসময় ক্রেতা শফিক শিশুটি তার বাসায় নেই বলে তাড়িয়ে দেয়। পরে নিজ স্থানীয় কানাশাখোলা বাজারে ইউরিয়া সার খেয়ে সুমা আক্তার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে এলে পুলিশকে খবর দিলে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছি এবং শিশুটির বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: