প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় সেতুর কাজ বন্ধ করে দিলেন হুইপ

   
প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, ৪ জুলাই ২০২০

শেরপুরে দুইটি সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের অভিযোগে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন শেরপুর সদর-১ আসনের এমপি ও সরকার দলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে শেরপুর- জামালপুর সড়কের শিমুলতলী ও পোড়াদাহ সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে সেতুতে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের সত্যতা পেলে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে নিম্নমানের কাজ করে বিলের কোটি কোটি টাকা তুলে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে সুবিধা দেয়া বন্ধ করতে সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারীও দিয়েছেন তিনি। নতুন কাঁচামাল আসা পর্যন্ত সকল নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতেও নির্দেশ দিয়েছেন।

শেরপুরের সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জামালপুর-শেরপুর-বনগাঁও (আর-৪৬০) সড়কের শিমুলতলী ও পোড়াদাহ এলাকায় বর্ষার সময় ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহের জন্য দুটি কজওয়ে (নিচু রাস্তা) নির্মাণ করা হয়। যা প্রতি বছর বর্ষার মৌসূমে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই সমস্যা নিরসনে দুই কজওয়েতেই সেতু নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ করে সরকার। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অধীনে দুটি সেতুরই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ (প্রাঃ) লিমিটেড নামের একই প্রতিষ্ঠান। আঠারো মাসের প্রকল্প মেয়াদে শিমুলতলী সেতুতে ১২৫.৪৯৭ মিটার দৈর্ঘ্যে ১৮ কোটি ৭৫৮ লক্ষ টাকা ও পোড়াদাহ সেতুতে ১২৫.৪৯৯ মিটার দৈর্ঘ্যে ২০ কোটি ৯২৩ লক্ষ টাকা প্রকল্প মূল্য ধরা হয়েছে।

এদিকে, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার ও পুরোনো রাস্তার পাথর ব্যবহারের অভিযোগ করে স্থানীয়রা। রপ্তানী করা পাথর ব্যবহারের পরিবর্তে শেরপুর সীমান্তের অবৈধ পাথর ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে দুটি সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পান শেরপুর সদর-১ আসনের এমপি ও সরকার দলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক। এসময় তিনি নিজে পাথর খুঁড়ে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের ব্যপারে নিশ্চিত হোন এবং কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের বিষয়ে শেরপুর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন বলেন, যেসব কাঁচামালের ব্যপারে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব কাঁচামাল দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেইসাথে প্রকল্পে উল্লেখ করা কাঁচামাল সরবরাহের পর আবার কাজ শুরুর ব্যপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অবৈধ পাথর ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, অবৈধ পাথর সরবরাহের ব্যপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। এ বিষয়ে তারা ব্যবস্থা নিবে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: