প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

নিষেধাজ্ঞা ভেঙে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ ব্যাংককে

   
প্রকাশিত: ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ১৮ অক্টোবর ২০২০

জমায়েতের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার পরও শহরটির তিনটি আলাদা স্থানে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও রাজতন্ত্র সংস্কারের দাবিতে এই বিক্ষোভ চলছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ব্যবহারের নিন্দান জানান শনিবারের বিক্ষোভে যোগদানকারীরা। গতকাল সকাল থেকেই ব্যাংককে দলে দলে লোক জড়ো হতে থাকে এবং নানারকম স্লোগান দেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান দিয়ে রাসায়নিক মিশ্রিত পানি নিক্ষেপ করে পুলিশ। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারী নেতাকে। তাদের প্রতিহত করতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল হেলমেট পরা দাঙ্গা পুলিশ। এদিন সেখানে অনেকটা হংকংয়ের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুলিশ যন্ত্রণাদায়ক পানি ছুড়লেও ছাতা হাতে সেখানেই অনড় থাকেন অনেক বিক্ষোভকারী।

এক নেতা বলেন, স্বৈরাচারী এই সরকার জনতার আন্দোলন ঠেকাতে সহিংসতা ব্যবহার করছে। এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরে আরো ছয় বিক্ষোভকারীসহ গ্রেফতার করা হয় তাকে। প্রায় তিন মাস ধরে সরকারের পতন ও রাজতন্ত্রের সংস্কারসহ বেশ কিছু দাবিতে বিক্ষোভ করছে থাইল্যান্ডের জনগণ। শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। তবে গত কয়েক দিনে একাধিক নেতাসহ প্রায় অর্ধশত বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভ সরাসরি সমপ্রচারের সময় গ্রেফতার হয়েছেন কয়েক জন সাংবাদিকও। বিক্ষোভ ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে থাই সরকার। এ পরিস্থিতিতে এক জায়গায় পাঁচজনের বেশি সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করেই ব্যাংককের রাস্তায় নেমে এসেছেন অগণিত মানুষ। এক বিক্ষোভকারী গতকাল বলেন, আমি নিজের জন্য ভীত নই। দেশের ভবিষ্যত্ নিয়েই আমার বেশি ভয়।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—থাই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন, সামরিক সরকারের লেখা সংবিধান সংশোধন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজশাসন সংস্কার। তবে আন্দোলনের মুখেও পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ২০১৪ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা। সমালোচকদের দাবি, ক্ষমতায় থাকতে গত বছরের নির্বাচনে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন থাই প্রধানমন্ত্রী।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: