প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

দিলওয়ার খান

বিশেষ প্রতিনিধি, নেত্রকোনা

নেত্রকোণার ভাটি অঞ্চলে নৌ পথে চলছে চাঁদাবাজি

   
প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ৯ জুলাই ২০২০

মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমনে জনজীবন থমকে গেলেও নেত্রকোনার হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীতে থেমে নেই চাদাঁবাজদের দৌরাত্ব। নৌ-পথে অবাধে চলছে চাঁদাবাজী। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় জেলার খালিয়াজুরীর ধনু নদের বিভিন্ন স্থানে পাথর, কয়লা ও বালু বাহী বলগেট (ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকা) থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চাঁদাবাজী।

অভিযোগে জানা গেছে, সিলেটের ছাতক, জাফলং থেকে নৌ-পথে বলগেটে করে পাথর, কয়লা ও সিনেটর বালিনেয়া হয় ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে।এমনকি এ পথেই দিয়েই বরিশাল,পটুয়াখালী পর্যন্ত যায় ওই পাথর,কয়লা ও বালি। সিলেট থেকে যাওয়ার পথে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধনু নদের গাগলাজুর, আসদপুর, নাওটানাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ পুলিশের নাম করে এবং স্থানীয় কিছুলোক আরকাটি (সীমানা নির্ধারনী বাঁশের খুঁটি) স্থাপনের কথা বলে ওই সমস্ত বলগেট থেকে ৫০ টাকা থেকে ৩০০/- টাকা পর্যন্ত আদায় করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে বলগেটের চালকদের মারধর এবং লাঞ্চিত করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক বলগেট চালক বলেন, মাঝে মধ্যে আমাদেরকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়। সন্ত্রাসীদের ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। নতুবা বন্ধ করে দিতে হয় বলগেট চালনা। খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া বাজারের জনৈক ময়না মিয়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ ব্যাপারে ময়না মিয়ার সাথে কথা বললে চাঁদাবাজীর কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আরকাটি না দিলে নৌপথে যাতায়াতের সীমানা হারিয়ে বলগেট নৌকার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে আভন্তরীন নৌ পরিবহন সমিতির সিদ্বান্ত অনুযায়ী খরচ বাবদ নৌকা প্রতি ১০ টাকা থেকে ২০টাকা নেয়া হয়। বিষয়টি বলগেট মালিকদের সাথে পরামর্শ করেই নেয়া হচ্ছে।

লেপসিয়া নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কিছুদিন ধরে নৌ পুলিশ এলাকায় দায়িত্ব গ্রহন করেছে। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে এলাকায় নৌপথে চুরি ডাকাতি প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। কেউ যদি নৌ পুলিশের কথা বলে চাঁদাবাজী করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: