প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন-অর-রশীদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

পদ্মা সেতুর ছোঁয়ায় অর্থনৈতিক মুক্তির আলোয় ফরিদপুর

   
প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, ২১ অক্টোবর ২০২০

দুয়োরানি বলে অভিমান করত ফরিদপুর। যুগ যুগ ধরে কেবল প্রতীক্ষা। ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন পদ্মানদীতে। সেই পদ্মার সেতু ঘিরেই মুক্তির স্বপ্ন। কল্পনা না সত্যি সত্যি। স্থবিরতা কাটিয়ে চঞ্চলতা। মধুমতীর বুকে জমা ব্যথার অশ্রু বদলে যাবে উল্লাসে। চলবে উন্নয়ন নির্বিঘ্নে।ফরিদপুরের আয়তন দু’হাজার বর্গকিলোমিটারের মতো। ২০ লাখ লোকের অধিকাংশেরই বাস গ্রামে। কৃষি নির্ভর জীবন। চাষবাস ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারে না। শিল্প কারখানা বলতে চটকল। তাতে কী হবে। চটের চাহিদা নিম্নগামী। বিদেশের বাজারেও ভাটার টান।

এই মুহূর্তে বিরামহীন পদ্মা সেতু নির্মাণ। ডেড লাইনের আগেই কাজ শেষের প্রয়াস। বছর মাস দিন ঘণ্টা নয়, প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য। পদ্মার চরে শরিয়তপুর জেলার সীমান্তে জমি নেওয়া হচ্ছে। বিশাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে। দেশ-বিদেশের বিমান উঠবে নামবে। উন্নয়নের গন্ধ পাচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যেখানেই জমি পাচ্ছেন সেখানেই কিনছেন। তাঁরা জানেন, জমির দাম আগুন হবে। আগে থাকতে কিনলে অনেকটা অর্থনৈতিক সাশ্রয়। বিশ্বের কোনও অংশের থেকে আর দূরে থাকবে না ফরিদপুর। আসা যাওয়া দুর্বার গতিতে। যেখানে চাষ সেখানেও শিল্প কারখানার পরিকল্পনা। অবশ্যই সব দিক বাঁচিয়ে। যাঁরা জমি দেবেন তাঁদের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। পুনর্বাসন নিশ্চিন্তে। সরকার সে ব্যাপারে একশো ভাগ সচেতন।

বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ড শপ, রেস্তোরাঁ ফরিদপুরে ঝাঁপাতে তৈরি। তিতুমির বাজার বা নিউমার্কেটে কিছুটা উদ্বেগের ছায়া। সেখানকার ব্যবসায়ীরা ভাবছেন, তাঁদের দোকানে এসি নেই, কার পার্কিংয়ের জায়গায়ই বা কোথায়। বিদেশিরা সে-সব দেবে, চড়া দামে বেশি আরাম। সুদিন ফিরলে লোকের পকেট উপচোবে। আন্তর্জাতিক মানের দোকানেই ছুটবে। দেশি দোকানদাররা মাছি তাড়াবে। সরকার সেটা চায় না। স্বদেশি দোকানের মান বাড়ানো হবে, যাতে ভিনদেশিদের সঙ্গে টক্কর দিতে পারে। ট্রেড লাইসেন্স তিন থেকে পাঁচ হাজার করাতে দোকানদারদের কিছুটা গায়ে লাগলেও সেটা পুষিয়ে যাবে। তাঁদের সুযোগ সুবিধে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ভ্যাট বাড়িয়ে ১৪ হাজার টাকা করা হলেও সরকারি আয়ের বড় অংশ তাঁদের উন্নয়নেই ব্যবহার করা হবে। ফরিদপুর বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র কানাইপুরে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন পণ্যের বৃহৎ কারখানা। যার প্রভাবে ফরিদপুরের অর্থনৈতিক কাঠামোটাই বদলাবে। ফরিদপুরের মানুষকেই শুধু ঢাকায় ছুটতে হবে না। সেখানকার লোকেরাও ফরিদপুরমুখী হবে। উন্নয়নের দীপ্তিতে ঝলমল করবে গোটা অঞ্চল।

এদিকে, পদ্মা সেতু নির্মাণ একসময় বাংলাদেশের জন্য শুধু স্বপ্ন থাকলেও সেটি এখন বাস্তব। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সেতুর ৭০ ভাগ কাজ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: